প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমার ফিরেছে
জাতিসংঘের আপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম রোহিঙ্গা এক পরিবার ফেরত নিয়েছে মিয়ানমার। তবে জাতিসংঘ বার বারই বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য এখনো নিরাপদ নয় মিয়ানমার।
তবে কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, এই পরিবারটি বাংলাদেশের কোনো শরণার্থী শিবিরে ছিলো না। তারা ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’ থেকে প্রত্যাবাসিত হয়েছে।
গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ এটিকে জাতিগত নিধণ বলে অভিহিত করলেও মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মিয়ানমার বলেছে, পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার শনিবার রাখাইনের তানজিপিওলেটওয়া অভ্যর্থনাকেন্দ্রে এসেছে। তাদেরকে বিভিন্ন সহায়তা ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার চলমান প্রক্রিয়ায় তাদের নিবন্ধনের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মিয়ানমার। তবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে এই কার্ডকে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে রোহিঙ্গাদের আজীবনের জন্য শরণার্থী করে রাখার পাঁয়তারা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই কার্ড একধরণের পরিচয়পত্র যেটি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে না। বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতারা এই পরিচয়পত্র প্রত্যাখ্যান করেছে।
মিয়ানমার সরকারের শনিবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই পরিবারকে মিয়ানমারে প্রবেশের আগেই এনভিসি কার্ড দেয়া হয়েছে।
ওই পরিবারকে এনভিসি কার্ড দেয়ার ছবি প্রকাশ করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। সেখানে তারা বলেছে, একটি মুসলিম পরিবারকে এনবিসি কার্ড দেয়া হচ্ছে। দেশটি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেনি।
ওই রোহিঙ্গা পরিবারটি মিয়ানমারের পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়ার আগেই জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন এখনো নিরাপদ ও টেকসই নয়।
সংস্থাটি বলেছে, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতূলতা, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচুত্যির ঘটনা ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয়।
সংস্থাটি আরো বলেছে, মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের আগে বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের তাদের আইনি অধিকার ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পাওয়াসহ রাখাইনে নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় আবশ্যক।
বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে এখনো রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আসতে থাকলেও মিয়ানমার বলেছে, তারা শরণার্থীদের ফেরত নিতে প্রস্তুত। সূত্র: বিবিসি