কুমিল্লা বোর্ডে মেধা তালিকায় প্রথম রায়পুরের আয়েশা আফরা, স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার
একটির পর একটি সাফল্য—উপজেলা থেকে জেলা, বিভাগ পেরিয়ে এবার কুমিল্লা বোর্ডের মেধা প্রতিযোগিতার তালিকায় প্রথম স্থান। মাত্র চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হয়েও নিজের মেধা ও প্রতিভায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের আয়েশা আফরা। তার সাফল্যে গর্বিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এখন তার প্রত্যাশা—প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের অর্জনের কথা জানানোর।
আয়েশা আফরা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর এলাকার প্রবাসী মো. ইকবাল পাটওয়ারীর মেয়ে। তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস রুনা। আফরা বর্তমানে রায়পুর দারুল কুরআন ইসলামি একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। শ্রেণিতে তার রোল নম্বর এক।
ছোটবেলা থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছে আফরা। উপজেলা পর্যায়ের মেধা প্রতিযোগিতায় দুইবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। একইভাবে জেলা পর্যায়েও দুইবার প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন করেছে রায়পুরের এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
এতেই থেমে থাকেনি আফরার সাফল্যের গল্প। জাতীয় পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমির প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে। সর্বশেষ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে নিজের প্রতিভার আরও একবার প্রমাণ দিয়েছে আফরা।
ধারাবাহিক এই সাফল্যের সুবাদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পেয়েছে সে। এতে আফরার পরিবার যেমন আনন্দিত, তেমনি গর্বিত রায়পুরবাসীও।
আফরার এই অসাধারণ সাফল্যে উৎসাহ দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি আফরার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন এবং পড়াশোনায় আরও ভালো করার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য তার প্রতি উৎসাহ ও সহযোগিতার আশ্বাসও দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
এদিকে একের পর এক সাফল্য অর্জন করা আফরার স্বপ্ন এখন আরও বড়। ভবিষ্যতে পড়াশোনায় ভালো করে দেশ ও পরিবারের জন্য সম্মান বয়ে আনতে চায় সে। পাশাপাশি তার রয়েছে আরেকটি বিশেষ প্রত্যাশা—দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের সাফল্য ও স্বপ্নের কথা বলার।
আফরার পরিবার ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা, উৎসাহ ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জন বয়ে আনবে এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার হাত ধরেই একদিন রায়পুর তথা লক্ষ্মীপুরের নাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।