সেই স্মার্ট রিক্সাওয়ালা এখন অটো চালক

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০১৮ ৯:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোহনানিউজ: পরিপাটি পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে রিক্সা চালাতেন লক্ষ্মীপুরের মোঃ ফারুক হোসেন। পৌর শহর জুড়ে সখ করে তরুণ-তরুণীরা প্রায় ফারুকের রিক্সায় ঘুরতেন। স্মার্ট চালক হিসেবে পরিচিত তিনি। শার্ট, প্যান্ট, পায়ে সু, জামার সাথে সেট করা টাই, হাতে ঘড়ি, মাথায় ক্যাপ, হাতের আঙ্গুলে সোনার রিং আর চোখ দাদানো মোবাইল ম্যাচিং করে রিক্সা চালাতেন।

বুধবার(২১ মার্চ) দুপুরে দেখা গেছে যাত্রী নিয়ে পৌর শহরের চকবাজারে ইজি বাইক চালাচ্ছেন তিনি। এখন আর নেই তার শার্ট, প্যান্ট, পায়ে সু, জামার সাথে সেট করা টাই, হাতে ঘড়ি ও মাথায় ক্যাপ। তাকে বলছে না কেউ স্মার্ট চালক। ওই সময়ে কথা হয় ফারুকের সাথে। ফরুক বলেন আমি ইজি বাইক ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছি। দৈনিক ৫’শ টাকা দিতে হয় মালিককে। ৭-৮শ টাকা আয় হয়। এদিয়ে সংসার চলে। দুই লক্ষ টাকা ঋণে আছেন বলেও জানান ফারুক।

এর আগে গেল বছরে আগষ্ট মাসে তাকে নিয়ে বাংলানিউজের নিজস্ব প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমান ‘লক্ষ্মীপুরে স্মার্ট চালকের আয়ও বেশি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেন। ওই প্রতিবেদনের সূত্রে পরের দিন রাত একাত্তর জার্নালের লাইভ অনুষ্ঠানে স্মার্ট চালক ফারুকের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। এতে স্মার্ট চলক ফারুককে এক নামেই সবাই চিনতেন। সখ করে তার রিক্সা করে ঘুরতেন অনেকেই।

স্মার্ট থেকে আনস্মার্ট হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি মোহনানিউজকে বলেন, যখন আমি স্মাট হয়ে রিক্স চালাতাম তখন আমার অনেক টাকা খরচ হতো। ব্যায় হিসেবে আয় হতো না।

নিজের খরচ আর বাসা ভাড়া দিয়ে পরিবার চালাতে বিপাকে পড়তে হয়েছে। এতে রিক্সা চালানো ছেড়ে নিয়ে আমি ঢাকা চলে যাই। ৩ মাস বাসা ভাড়া দিতে না পারায় আমার বাসায় থাকা ৮০ হাজার টাকার মালামাল ২৬ হাজার টাকা বিক্রি করে বাসার মালিক। এখন আমার আর কিছুই নেই। গ্রামের বাড়ীতে থাকি। আমার পরিহিত শার্ট, প্যান্ট, পায়ে সু, গলায় টাই, হাতে ঘড়ি, মাথায় ক্যাপ না থাকায় এখন আর স্মার্ট হতে পারছিনা। যার কারনে ইজি বাইক চালাতে হচ্ছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন