পুকুর খনন করতে গিয়ে রামগতিতে প্রাচীন জাহাজের সন্ধান
নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতিতে মাটি চাপায় বিশাল আকৃতির ‘জাহাজ’ রয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। পুকুর খনন করতে গিয়ে পুর্তগিজ জাহাজের একটি ‘মাস্তুল দেখা গেছে। মাটির নীচে প্রাচীন যুগের জাহাজ পাওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে কৌতুহলী লোকজন দেখতে ভীড় করছেন।
জানাগেছে, প্রায় দুই শ’ বছর আগে এখন দিয়ে জাহাজ চলাচল করতো। কালের পরিবর্তনে চরে জেগে উঠে। গড়ে উঠে মানুষের বসতি। রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামে বেশ কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছে মাহফুজুর রহমানের পূর্ববর্তী বংশধরগণ।
কৃষক মাহফুজুর রহমান বাড়ির জন্য পুকুর খনন করতে গেলে জাহাজের মাস্তুল দেখতে পায়। জাহাজের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয়রা টিউবওয়েল মিস্ত্রি দিয়ে পাইপ বোরিং করান তিনি। আশেপাশের দুই-তিন শ’ ফুট এলাকা জুড়ে বোরিং করা হয়। তাতে দেখা যায় ১২-১৪ ফুট গভীরে গেলে পাইপ আটকা পড়ে। একইভাবে বেশ কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বোরিং করে এলাকার লোকজন নিশ্চিত হয়েছেন এটি বিশাল আকৃতির ‘জাহাজ’।
জাহাজের ‘মাস্তুল’ দেখেই ধারনা করা হচ্ছে প্রায় দেড়-দুই শ’ বছর আগে নদীতে ডুবে যাওয়া জাহাজ। কেউ কেউ ধারনা করছেন পুর্তগিজদের ব্যবহৃত জাহাজ এটি। এতে মূল্যবান সোনা-গয়না ও অস্ত্রসস্ত্র থাকতে পারে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাটি কাটতে না পারায় পুকুর খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। খননকৃত পুকুরে জাহাজের মাস্তুলের অংশ দেখা যাচ্ছে। ওই মাস্তুল ঘিরে নানা আলোচনা ও মন্তব্য। দেখতে আসছে দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন।
সরোজমিনে গিয়ে কথা হয় পুকুর খনন করা জমির মালিক মাহফুজুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের থেকে শুনেছি একসময় (প্রায় দেড়/দুই শ’ বছর আগে) চর রমিজ ইউনিয়নসহ উপজেলা বিশাল অংশ ছিলো উত্তল নদী।
বঙ্গোপসাগর সংযুক্ত এই নদী ছিলো বিশাল বৃস্তিত। এই রুটে চলাচল করতো বড় বড় জাহাজ। পুর্তগিজদেরও এই পথে যাতায়াত ছিলো। ওই সময় একটা জাহাজ ডুবে গেছে বলেছেন তারা। তবে কোন স্থানে ডুবেছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বর্তমানে পুকুর খননে ১০/১২ফুট গভীরে গেলে জাহাজের সন্ধার মেলে। যে কারণে পুকুর খনন শেষ করা যায়নি; বর্তমানে খনন কাজ বন্ধ রয়েছে।
রামগতির বিবিকে পাইলট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু তাহেরে মোহনানিউজকে বলেন, এটি এক সময়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ হতে পারে। পরবর্তীতে পলি জমে নদী চরে রুপান্তরিত হয়। নদীর বুকে জেগে উঠা চরে ফসল উৎপাদন ও বসতি গড়ে উঠে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় ডুবে যাওয়া জাহাজ। এখন মাটি কেটে পুকুর খনন করায় সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ বলে ধারণা করছেন তিনি।
চর আফজল গ্রামের বাসিন্দাদের ধারনা, জাহাজটি পুর্তগিজদের হতে পারে। প্রাকৃতির দুর্যোগ কিংবা কোনো দুর্ঘটনায় জাহাজটি নদীতে ডুবে গেছে। পরবর্তীতে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই জাহাজে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে বলেও ধারণা করছেন তারা।
নোয়াখালীর সূবর্ণ চর উপজেলা থেকে আসা কলেজ পড়–য়া ছাত্র শরিফ ও আকবর মোহনানিউজকে জানান, খবর পেয়ে তারা জাহাজ দেখতে এসেছেন। তারা মনে করেন বিষয়টি প্রতœতত্ত বিভাগের নজরে আনা জরুরী; গবেষণায় জানা যাবে এটি কি এবং এর রহস্য ও ইতিহাস।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর আলী মোহনানিউজকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে গবেষনার জন্য প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সাথে আলাপ করা হবে। বর্তমানে পুকুর খনন না করার নিদের্শ দিয়েছি।