পৌরসভার কর্মচারীকে পেটালেন এসআই,পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারী খোরশেদ আলমকে বেদম মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে পৌরসভার চৌরাস্তায় তাকে দফায় দফায় পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ এ হামলা করেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও চালককে পেটানোর দৃশ্য সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে স্পট দেখা গেছে।
এঘটনার প্রতিবাদে পৌরসভার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা কর্মবিরতি করেছেন। দুপুর থেকে পৌরসভার কর্মচারীরা পানি সরবরাহ বন্ধ ও রাত সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত সড়ক বাতি বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন। তারা দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করে অনির্দিষ্টকালে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা অবসারণের ট্রাক চালক খোরশেদ ঘটনার সময় বালুয়া চৌমুহনী বাজার এলাকায় আবর্জনা ফেলে অফিসের দিকে ফিরছিলেন। এসময় তার ট্রাকে ৪ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিল। পথিমধ্যে খাদ্য গুদামের সামনে এসে ট্রাকটি জানজটে পড়ে। এসময় মোটর সাইকেলে থাকা এসআই ফারুক আহমেদ ট্রাকের পেছন দিক থেকে সামনে এসে দাড় করিয়ে চালক খোরশেদকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি শুরু করে। তাকে ট্রাক থেকে নামাতে টানা-হেঁচড়া করা হয়।
এক পর্যায়ে তাকে নামিয়ে দফায় দফায় কিল-ঘুষি দিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে পুলিশ সটকে পড়ে। অচেতন অবস্থায় খোরশেদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পৌরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্গলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পৌরসভার উপকন্ঠে বেশ কয়েকটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি ক্যামেরা) স্থাপন করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা ট্রাক চালককে পেটানোর দৃশ্যগুলো ওই ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে স্পট দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত খোরশেদ আলম বলেন, এসআই ফারুক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কালো চশমা পড়ে আমাকে কিল-ঘুষিতে মারতে থাকে। কোন কারনে ছাড়াই তিনি নির্দয়ভাবে আমার বুকে অন্তত ২০-৩০টি ঘুষি দিয়েছে। এখন বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছি। বিষয়টি আমি মেয়রকে জানিয়েছি, এঘটনায় মামলা করবো।
পৌরসভা কর্মচারী সংসদের লক্ষ্মীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন হেলাল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পৌরসভার স্টাফ পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে। এঘটনায় বিচারের দাবিতে কর্মবিরতি করা হয়েছে।
রামগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহম্মেদ বলেন, খোরশেদের ট্রাকে লুকিং গ্লাস (পেছনে দেখার গ্লাস) ছিল না। এতে ট্রাকের নিচে আমি পড়ার উপক্রম হয়েছে। এনিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে পেটানোর অভিযোগটি সত্য নয়।
এ ব্যাপারে জানতে রাতে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি তা ধরেননি।