মেঘনার তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ি নদীর গর্ভে

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:১৪ অপরাহ্ণ

মোঃ মোস্তফা কামাল: লক্ষ্মীপুরে রায়পুরে মেঘনার ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করছে। ভাঙনের কবলে একাধিক বসতবাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসা নদী গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চোখের সামনে নদী ভাঙ্গছে। বিলীন হচ্ছে-চিরচেনা বসতভিটা-ফসলি জমি। এ ভাঙ্গনে কাঁদছে নদীর পাড়ের জনগোষ্ঠি।

এক সময়ের বিত্তশালীরাও মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের স্বীকার হয়ে এখন চরম অসহায়। তাদের মাথা গোজার জায়গা নেই। সবার চোখে-মুখে আতংক, আর্তনাদ দেখা যাচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ প্রতিদিনই আসছে মেঘনার ভাঙনের তান্ডব দেখতে। প্রায় তিন’শ বসতবাড়ী, ২শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, তিনটি প্রাথমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক স্কুল, দুইটি মসজিদ ও অসংখ্য মাছের আড়ৎ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি মেঘনা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজন মানব বন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। এসময় সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি জানান।উপজেলার উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের খেলা দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়তই।

স্থানীয়রা বলছে, দ্রুত পাউবো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মোল্লার হাট বাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতিঘরসহ রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের অংশবিশেষ উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা বলছে, দুই বছর আগে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে নোটশিট পাঠালেও এখনো তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাদেরও অসহায় হয়ে ভাঙন দেখা ছাড়া কিছু করা যাচ্ছে না।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরবর্তী উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লার হাট, পানিরঘাট, স্লুইসগেট এলাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘাট এলাকা, হায়দরগঞ্জ সাইজ উদ্দিন মোল্লার ঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকার ছয়টি গ্রামের সহস্রাধিক বসতভিটাসহ কয়েকশ হেক্টর জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

চরবংশীর মোল্লারহাট, হাজীমারা, জালিয়ার চর, টুনুরচর ও চরঘাশিয়া গ্রামে চলছে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন। একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত বাড়ি ও ফসলি জমি। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকে।

দক্ষিন চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছালেহ মোঃ মিন্টু ফরায়েজী বলেন, নদী ভাঙনের ভয়াবহতা এতো বেশি যে প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়ি অথবা স্থাপনা নদীতে চলে যাচ্ছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, পাঁচ বছর আগে থেকেই হাইমচরের চরভৈরবী থেকে রায়পুর হয়ে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট পর্যন্ত ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত দুই বছর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বহু বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়। এ কারণে গত দুই বছর আগে পানিস¤পদ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা এলাকা পরিদর্শন করে তীররক্ষা বাঁধের আশ্বাস দেন।

এরপরই কারিগরি কমিটি স্থান পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কিন্তু সেটি অনুমোদন হয়নি। অনুমোদনের পর প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন