ফেরীঘাটে অতিরিক্ত ড্রেজারে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর-ভোলা মজুচৌধুরীহাট ফেরীঘাট এলাকায় নদীতে বেশ কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বালু ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। যে কারণে বিশাল এলাকা জুড়ে বাঁশের খুঁটি দিয়ে পাইপ স্থাপন করা হয়। এতে ফেরীঘাট সংলগ্ন এলাকা সংকোচিত ও সরু হয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে ফেরী, সি-ট্রাক ও লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এদিকে, ঘাটের প্রবেশ রাস্তা দখল করে বালু ব্যবসা চালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় স্থানীয় প্রভাবশালী সেলিমের বালুমহাল সিলগালা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (৪ জুন ) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের সরবারহকৃত বালু ভলগেট থেকে আনলোড ড্রেজার দিয়ে নদীর পাড়ে উত্তোলন করা হচ্ছে। এসময় ফেরী কনকচাঁপা লক্ষ্মীপুর থেকে ভোলার উদ্দেশ্য ছেড়ে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
ঠিক একই সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা ফেরী কলমিলতা ঘাটে এসে পৌছায়। তখন একটি ঘাট থেকে বের হতে; অন্যটি নোঙর করতে বিড়ম্ভনায় পড়তে হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ-রুটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার-হাজার যাত্রী, শত-শত যানবাহন এই রুটে আসা যাওয়া করে। ব্যাস্ততম এই ফেরীঘাটের পাশে ১০ থেকে ১২ টি ড্রেজার স্থাপন করায় নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত একটি নৌ-যানের সঙ্গে অপরটির ধাক্কা লাগছে। এতে যে কোনো মহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ফেরীতে উঠতে অপেক্ষামান বাস-ট্রাক চালকরা জানান, নদীতে বেশ কিছু ডুবোচর থাকায় যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ঘাট এলাকাও বালু ব্যবসায়ীদের দখলে; এসব কারণে ভোগান্তির যেনো শেষ নেই।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফেরী চালক মেঘনারপাড়কে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘাট এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর সংযোগ খাল সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে ফেরি নোঙর ও ঘাট থেকে বের হতে ঝুঁকিতে পড়তে হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাজান আলী বলেন, নৌ চলাচলে যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাৎক্ষণিক তিনি মজুচৌধুরীর হাট কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডারকে ঈদের আগেই ওইসব ড্রেজার সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন।