শিলাবৃষ্টিতে আট কোটি টাকার কলা নষ্ট

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:১১ অপরাহ্ণ

মোহনানিউজ: ‘ধারদেনা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করে সফলতার আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। কলার কাঁদি কাটার সময়ও হয়েছিল। বাইরের জেলার ব্যাপারীরাও আসতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত ৩০ মার্চ ১০ মিনিটের ব্যাপক শিলাবৃষ্টি পথে বসিয়েছে পাঁচ শতাধিক কৃষককে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে কলার কাঁদি ও গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। কাঁদির বেশিরভাগ কলা ফেটে চৌচির আবার কোনোটিতে ক্ষত।

যা বিক্রির উপযোগী নয়। এমন অবস্থায় সরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে হতাশা বিরাজ করছে কলাচাষিদের মাঝে।’ এ কথাগুলো বলছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক মামুনুর রশিদ। শিলাবৃষ্টিতে তার পাঁচ বিঘা জমির কলা নষ্ট হয়েছে। শুধু মামুনুর রশিদই নয়, রামনগর, ব্রজপুর ও ভবানীপুর গ্রামের চাষিদের ৭ থেকে ৮শ’ বিঘা জমির আট কোটি টাকার কলা নষ্ট হয়েছে শিলাবৃষ্টিতে।

রামনগর গ্রামের কলাচাষি জিয়াউর রহমান বলেন, গত তিন বছর ধরে আমাদের এলাকায় সবরি জাতের কলা আবাদ হচ্ছে। কলা চাষ এ এলাকার প্রধান অর্থকরী আবাদ। এক বিঘা জমিতে আবাদ খরচ ৩০-৪০ হাজার টাকা হলেও গত দুই বছর বিঘায় ৩০-৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। ফলে এবার কলার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছিল। একই গ্রামের চাষি রুহুল আমিন বলেন, কলাগাছ রোপণ থেকে ফলপ্রাপ্তি পর্যন্ত ১৪ মাস সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময় চাষের খরচ জোগাতে চাষিরা কৃষি ব্যাংক গাংনী শাখা ও জনতা ব্যাংক বামন্দী শাখা থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়াও বাকিতে সার কীটনাশক নেওয়া হয়েছে। এখন কলাক্ষেত নষ্ট হওয়ায় চাষিদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার উসমানপুর গ্রামের কলা ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১০ লাখ টাকায় আগাম কলা কিনেছিলাম। এখন ক্ষেতের কলা বিক্রি উপযোগী নয়। তাই কলা কাটতে পারছি না। আমার মতো অনেক ব্যবসায়ী চাষিদের মতোই পথে বসতে হচ্ছে।

রামনগর গ্রামের কলাচাষি ছহির উদ্দীন ও ইকতার আলী বলেন, ৫০/৬০ বছরের মধ্যে এত বড় আকৃতির শিলাবৃষ্টি কখনো দেখিনি। চাষিরা এখন সর্বস্বান্ত। পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য কলাগাছ ক্ষেত থেকে অপসারণ প্রয়োজন। সেই খরচও আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই ব্যাংক ঋণ মওকুফ ও জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার দাবি জানান কৃষকরা।

জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির পরদিন কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসন ও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চাষিরা সহায়তার মুখ দেখেননি বলে জানান কয়েকজন চাষি।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম সাহাব উদ্দীন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো পূর্র্ণাঙ্গরূপে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল বলেন, কৃষি অফিস ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ততের সহায়তা করা হবে। তাই তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। তবে প্রাথমিক একটি তালিকা আমরা পাঠিয়েছি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন