শিল্পপতির প্রাইভেটকারে পঙ্গুর হুইল চেয়ার বহন !

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০১৮ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোহনানিউজ: বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ এবং জাতীয়তার গোঁড়ামী ও সংকীর্ণতা মানুষকে আকৃষ্ট করে রেখেছে ৷ প্রাচীন যুগ থেকে আজ পর্যন্ত প্রত্যেক যুগে মানুষের মধ্যে রয়েছে আভিজাত্যর অহংকার আর দাম্বিকতা। হ্যাঁ তবে সমাজে কিছু সাধারণত মানবপ্রেমীও রয়েছেন। যারা আছে বলেই পৃথিবীটা এখনো সুন্দর। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই তাদের মধ্যে। প্রতিনিয়তই অসহায় আর সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে দাড়াচ্ছেন ওই সব প্রভাবশালীরা।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের প্রতিবন্ধীর জন্য হুইল চেয়ার চেয়ে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করেন জুনাইদ আল হাবিব নামের এক কলেজ ছাত্র। বিষয়টি নজরে পড়েন এক শিল্পপতির। পরে তিনি হুইল চেয়ার দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

দু’দিন পর রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের পাশের একটি মার্কেট থেকে উন্নত মানের হুইল চেয়ার ক্রয় করেন ওই শিল্পপতি। তার ব্যক্তিগত ব্যবহারিক প্রাইভেটকারের পিছনে করে হুইল চেয়ারটি সায়দাবাদ বাস ষ্টেশনে এনে রামগতির একটি গাড়ীতে ওই প্রতিবন্ধির ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন। এতে অসহায়দের প্রতি এক বিরল ভালোবাসা পরিচয় দেন তিনি। এছাড়াও ফেসবুকে অনুদান যাওয়া বিভিন্ন পোষ্টের সূত্র ধরে তিনি একাধিক ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।

এমন মানবপ্রেমীর নাম আব্দুল মতিন চৌধুরী। তিনি ঢাকার বিসমিল্লাহ ডেকোটাইলস ও লাবিব ডাইন হাউজ নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর লরেন্স গ্রামের তার বাড়ী। তিনি ওই গ্রামের মাঈন উদ্দিন হোসেনের ছেলে। পড়ালেখা শেষে ব্যবসায় সময় দেন তিনি। পরে তার ব্যক্তিগত নামেই শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

জানতে চাইলে শিল্পপতি আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজের থেকে ভালো লাগে। আমরা এসব ছোটখাট অনুদান দিয়ে অসহায়দের পাশে দাড়ালে একদিন সমাজের চিত্র পরিবর্তন হবে। থাকবেনা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ। রামগতি-কমলনগরের নদী ভাঙ্গা ছিন্নমূল সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য কিছু করা প্রত্যেক প্রভাবশালীদের দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন