হাইকোর্টের মন্তব্য : ডা. সালাহ উদ্দিন শরিফের আচরণও দু:খজনক !
মোহনানিউজ ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের আচরণও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার সকালে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ কথা বলা হয়।
এসময় হাইকোর্ট ডা. সালাহ উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের আচরণও দুঃখজনক। তিনি উত্তেজিত হয়ে মারামারি করে ঠিক করেননি। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তার কাছে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছুই শেখার রয়েছে।
অন্যদিকে ঘরে বা অফিসে বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, মোবাইল কোর্ট স্পটে গিয়ে পরিচালনা করতে হয়। ঘরে বা অফিসে বসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা অবৈধ। ইদানিং দেখা যাচ্ছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যক্তি স্বার্থ, ক্ষমতা প্রদর্শনের মনোভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মোবাইল কোর্টের গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এমন কাউকে এখানে পদস্থ করা যাবে না যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। আশা করি, তারা আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।
আদালতে এডিসির পক্ষে অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার এবং নির্বাহী হাকিমের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন আবেদন দাখিল করেন। তাঁরা বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি, আমাদের মাফ করে দেবেন।’
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টাল আলতাফ হোসেন ও ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম। অন্যদিকে এডিসি মোর্শেদুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বাসেত মজুমদার এবং ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
হাসান এমএস আজিম বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক সিভিল সার্জনকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় এডিসি ও সেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ক্ষমা চেয়েছেন। তারা একটি চিঠিও আদালতকে দেখিয়ে বলেছেন,ওইদিন ম্যাজিস্ট্রেট একটি স্কুলে দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু আদালত বলেছেন, এটা নজিরবিহীন ও বানোয়াট চিঠি। এরপর আদালত তার আদেশ দেন।’
প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে শহরের জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকার কাকলি শিশু অঙ্গনের (বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রবেশমুখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাবেক সিভিল সার্জন শরীফের মধ্যে বাকবিতন্ডার পর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দিয়ে আটক করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সালাহ উদ্দিন শরীফকে তিন মাসের বিনাশ্রম জেল দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
একদিন পর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ২৪ ঘণ্টা পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিলের পর বিচারক মীর শওকত হোসেন পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ওই চিকিৎসকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চিকিৎসকের কারাদন্ডের বিষয়ে মঙ্গলবার জনস্বার্থে দুইজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ হাজির থাকতে তলব করেছেন। এসময় সালাহ উদ্দিন শরীফকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সেই এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়েছে। এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে পদায়ন করা হয়।
পরে বুধবার (০৬ ডিসেম্বর) বিকেল ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরিফ আপিলে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
[প্রিয় পাঠক, আপনিও মোহনানিউজ এ অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন– mohonanewsdesk@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে]