লকডাউনের খবরে লক্ষ্মীপুরে শফিংমলে নারীদের ভীড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা আসার খবরে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের শফিংমলগুলোতে নারী ক্রেতাদের ভীড় দেখে গেছে। শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে নারী ক্রেতারা তাদের শিশুদের নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছেন।
এদিকে ক্রেতাদের ভীড়েও দোকানিরা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। কোন ক্রেতার মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। মাস্ক কেন পড়েন না এ প্রশ্নের উত্তর কোন দোকানিই দিতে পারেননি। শহরের চক বাজার, মসজিদ মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট, পৌর আধুনিক বিপনী বিতান ও পৌর হকার্স মার্কেটে সন্ধ্যায় একই চিত্র দেখা যায়। প্রত্যেকটি মার্কেটেই নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। লকডাউনের খবরেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানী ও ক্রেতারা।
![]()
অন্যদিকে জেলা প্রশাসন থেকে প্রত্যেক দোকানিকে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রচারণা ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি মানতে নারাজ জনগণ। এতে গত কয়েকদিনে দুই শতাধিক পথচারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার না করায় সবশেষ শুক্রবার (২ এপ্রিল) সদর উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে জরিমানা করেছেন।
সদরের ভবানীগঞ্জ থেকে আসা কলেজছাত্রী নাজমুন নাহার বলেন, গতবার লকডাউনে ঈদের জামা কিনতে পারিনি। এবার আবার সেই ঈদের আগেই লকডাউন দিতে যাচ্ছে সরকার। এবার ঈদের জামা কিনতেই হবে। এজন্যই লকডাউনের খবর পেয়ে জামা কিনতে এসেছি।
চররুহিতা থেকে আসা মধ্যবয়সী নারী ফয়েজা বেগম জানান, গতবার তার সন্তানদের ঈদের জামা কিনে দিতে পারেননি। এবার না কিনে দিলে তাদের মুখের দিকে তাকানো যাবে না। লকডাউনের আগেই তাদের জামা কিনে দিয়েছি।
চক বাজার মসজিদ মার্কেটের দোকানী আব্দুল কাইয়ুম ও লাভলু বলেন, মাগরীবের আগ থেকেই নারী ত্তত উপস্থিতি বেড়েছে। তবে ছেলেদের পোশাক কম বিক্রি হচ্ছে। নারী ও শিশুদের পোশাক কিনতেই ক্রেতারা ভীড় জমিয়েছেন।
পৌর আধুনিক বিপনী বিতানের দোকানী ইমরান হোসেন মিরন বলেন, ঋণে টাকা নিয়ে নতুন দোকান দিয়েছি। শুনেছি সারাদেশে লকডাউন দেওয়া হবে। এতে দোকান বন্ধ করে দিলে ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।
পৌর সুপার মার্কেটের দোকানী আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত লকডাউনে যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এখন আবার লকডাউন দিলে ব্যবসায় অনেক বেশি ক্ষতি হবে। যা কাটিয়ে উঠা আর সম্ভব হবে না।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন আবদুল গফফার বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এ জেলায় করোনায় আক্রান্ত ৬৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।