মন্ত্রী শাহজাহান কামালের সংবর্ধনাকে ঘিরে বর্ণিল সাজে লক্ষ্মীপুর

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ৬:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোহনানিউজ : লক্ষ্মীপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শাহজাহান কামাল এমপিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী করায় আনন্দে উৎপলিত হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরবাসী।

তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। এ নিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সড়কগুলোর বিভিন্ন মোড়ে তোরণ, ব্যানার-পেষ্টুন লাগানো হয়েছে। রং আর তুলি দিয়ে আলপনা এঁকে সজ্জ্বিত করা হয়েছে সড়কগুলোকে।

২৪ জানুয়ারি বুধবার মন্ত্রী লক্ষ্মীপুর সফর করবেন। ওই দিন দুপুর ১টায় লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সরকারি আদর্শ সমাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মন্ত্রীকে গণ-সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

ওই দিন মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার জন-সাধারণ। মন্ত্রীর আগমন ও সংবর্ধনাকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো জেলা। শত-শত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর আলোকসজ্জ্বায় বর্ণিল করে সাজানো হয়েছে লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি রাস্তা-ঘাটকে।

এ উপলক্ষ্যে জেলাকে নববধুর রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এখন শুধু মন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ লক্ষ্মীপুরের আপামর জন-সাধারণ। মন্ত্রীকে অভিনন্দন ও সংবর্ধনাকে সফল ও সার্থক করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে।

মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ দলের বিভিন্ন অংঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে প্রতিদিন প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৪৭ বছর বঞ্চিত থাকার পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারে মন্ত্রী সভায় লক্ষ্মীপুরের কৃতি-সন্তান লক্ষ্মীপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামালকে বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী করা হয়। শাহজাহান কামাল মন্ত্রী হওয়ায় আনন্দে উৎসবে রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের মানুষ। শাহজাহান কামালকে মন্ত্রী করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্মীপুর বাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে ও মন্ত্রীর সংবর্ধনাকে সফল করতে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর আলোকসজ্জ্বায় বর্ণিল করে সাজানো হয়েছে লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি রাস্তা-ঘাটকে। এ ছড়া মন্ত্রীর সংবর্ধনা সভা সফল করার লক্ষ্যে পৌর শহরের আশপাশ এলাকায় সাজসজ্জ্বা ছড়াচ্ছে।

তৈরি করা হচ্ছে জনসভা স্থলের সুবিশাল নৌকার আদলে মঞ্চ। তাই জনসভায় রেকর্ড সংখ্যক লোক সমাগমের জন্য কাজ করছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আওয়ামী লীগ ও সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে তোড়জোড়।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুল পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বাসসের সংবাদদাতাকে জানান, দীর্ঘ ৪৭ বছর পরে আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী সভায় লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান শাহজাহান কামালকে স্থান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আমরা কৃতজ্ঞ। শাহজাহান কামাল মন্ত্রী হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ জেলাবাসীর মধ্যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রীকে গণ-সংবর্ধনা দিতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত- লক্ষ্মীপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারী লক্ষ্মীপুর জেলার আটিয়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. ফরিদ আহমেদ এবং মাতা মাসুমা খাতুন। তিনি চৌমুহনী মদন মোহন কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এইচএসসি পাস করেন এবং একই কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় সক্রিয়ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
পেশাগত জীবনে শাহজাহান কামাল একজন ব্যবসায়ী। তিনি ১৯৭২ সালে নবগঠিত লক্ষ্মীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ কে এম শাহজাহান ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন