বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মূল নায়ক জিয়া
মোহনানিউজ: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালো রাতে কিছু বিপথগামী সেনা অফিসার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। এমন হত্যাকান্ড বিশ্বের ইতিহাসে আর একটিও নেই। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্বংশ করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত এ হত্যাকান্ডের মূল নায়ক জিয়াউর রহমান। এ ঘটনার পর তিনি খুনী সেনা অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘ওয়েল ডান’ তোমরা একটি ভালো কাজ করেছো।
বুধবার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অবিভক্ত পাকিস্তানের সা মরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খাঁনের মতো হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। এরপর শখের বসে তিনি বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে আসে। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে-বিদেশে চাকরী দেওয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসন করেছিলেন। এমনকি কয়েকজনকে পার্লামেন্টের সদস্যও করেছিলেন তিনি। কিন্তু চিরন্তন সত্য হলো ‘পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না’। পরবর্তীতে ওই সামরিক বাহিনীর লোকেরাই একই কায়দায় জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। তাকে এমনভাবে হত্যা করেছে যে, তার লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শাহাজাহান কামাল আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াত। তাদের সহযোগিতায় আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করা হয়েছিল। ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। অথচ বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে জামায়াতের সাথে আঁতাত করেছে। বারবার দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার ব্যর্থ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাজাহান আলি, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না, সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম ভুলু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন শরীফ, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইবনে জিসাদ আল নাহিয়ানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। একই সময় জেলা শিশু একাডেমী আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সংহতিপূর্ণ কবিতা, রচনা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী, হামদ্-নাত্ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫জন শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন মন্ত্রী। এরআগে জেলা শহরে একটি শোক র্যালি ও জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এদিন লক্ষ্মীপুর-০৩ সংসদীয় আসনের মান্দারী, হাজিরপাড়া, উত্তর জয়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, দিঘলী, তেওয়ারীগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী। এছাড়াও বিকালে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।