লক্ষ্মীপুরে সুদ কারবারির থাবায় বাড়ি-গাড়ি হারালেন কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবদুল কাদের নামে এক ব্যক্তি সুদ কারবারির কবলে পড়ে বসত বাড়ি ও পিকআপ ভ্যান হারিয়েছেন। সুদ কারবারির নাম জাকির হোসেন।
মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ভূক্তভোগী কাদের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
কাদের কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ গ্রামের মৃত মন্তাজুর রহমানের ছেলে ও পল্লী বিদ্যুতের উপ-ঠিকাদার। সুদ কারবারি জাকির একই উপজেলার চরপাগলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
অভিযোগে বলা হয়, জাকিরের কাছ থেকে কাদের বিভিন্ন সময় সুদের ওপর ৮ লাখ টাকা ধার নেয়। তার মূল টাকা ও সুদসহ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।
পরে তারা দুজনে ৬ লাখ টাকা জমা দিয়ে কিস্তিতে একটি পিকআপ ভ্যান কিনেন। জাকির কৌশলে নিজের নামে গাড়ির কাগজপত্র করে নেয়। গাড়ির একক মালিক হওয়া শর্তে কাদের ওই গাড়ির সকল কিস্তি একাই পরিশোধ করে। পরে কাদের গাড়িটির মালিকানা দাবি করলে জাকির উল্টো তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা পাওনা বলে দাবি করে।
এ ঘটনায় জাকির জোরপূর্বক তার বসতবাড়িটি নিজের রেজিষ্ট্রি করে নেয়। গাড়িটিও অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এদিকে কাদেরের বসত বাড়িতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিদ্যুতের সরঞ্জামাদি থেকে যায়। ওই সরঞ্জামাদি আনতে গেলে জাকির তার কাছ থেকে আরো ১৬ লাখ টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করে। সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে কাদের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ শাখায় লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে।
আবদুল কাদের বলেন, আমার ছেলে আনোয়ার হোসেন রাজুকে হত্যার হুমকি দিলে ভয়ে জাকিরের নামে বসতবাড়ির জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছি। ওই বাড়িতে আমার প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিদ্যুতের সরঞ্জামাদি ছিল। সরঞ্জমাদিগুলো আনতে গেলেও তিনি আমার কাছ থেকে আরো ১৬ লাখ টাকা দাবি করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকির হোসেনকে ফোন করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে এড়িয়ে যান।
লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. এহতেশামুল হক বলেন, তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। পরে স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন জাকিরকে ৮ লাখ টাকা দিলে বসত বাড়ি ও গাড়িটি কাদেরকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জাকির তার সিদ্ধান্তটি অগ্রাহ্য করে।