লক্ষ্মীপুরে ছাত্রীদের শিক্ষকের যৌন হয়রানি,তদন্ত কমিটি
নিজস্ব প্রতিনিধি: কোরআন-হাদিসের ভয় দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিশু ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খন্ডকালীন শিক্ষক তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠার পর থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী ।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর চররমনী মোহন করাতির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন বছর আগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তোফায়েল আহমেদ যোগদান করেন। তার বাড়ী সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে। শুরু থেকে তিনি শিক্ষক হিসেবে স্থানীয় হাওলাদার বাড়িতে থেকে পাশ^বর্তী মসজিদে ইমামতি করতেন।
পাশাপাশি সকালে তিনি আরবি শিক্ষা ও রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। এসুবাদে শিক্ষক তোফায়েল কোমলমতি শিশু ছাত্রীদের কোরআন হাদীসের ভয় দেখিয়ে শিক্ষকের সকল কথা মানতে বলে। তিনি কৌশলে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানী ও যৌন হয়রানি করতেন। সবশেষ মঙ্গলবার (২৬ জুন) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করলে সে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। এরপর ঘটনাটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানালে তাৎক্ষনিকভাবে আরো ৭-৮জন ছাত্রী জানিয়েছেন, তারাও ওই শিক্ষকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শিক্ষক তোফায়েলে অপকর্ম ফাঁস হওয়ায় কৌশলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
ঘটনার জানাজানির পর অভিযুক্ত শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক খালেদা ইয়াছমিন পিঙ্কি জানিয়েছে, বেশ কয়েক ছাত্রী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি (অভিযুক্ত) মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।