মান্না দের মৃত্যুবার্ষিকী আজ (ভিডিও)

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১:৩৮ অপরাহ্ণ

জীবনের একেবারে শেষদিকে, নব্বই ঊর্ধ্ব বয়সে এসেও গায়কীতে এতটুকু ভাটা পড়েনি। গলার সেই একই তেজ বজায় রেখে, সঠিক তাল, লয়, মাত্রায় গান করে গেছেন অবলীলায়। কি করে সম্ভব? এমন এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘গানই আমার জীবন। এ কারণেই হয়ত পারি।’ তিনি আর কেউ নন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মান্না দে। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন এই মহান শিল্পী। আজ তাঁর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী।

মান্না দের জন্ম ১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতায়। পুরো নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে সঙ্গীতে হাতেখড়ি তার। এরপর প্রথমে কাকার সহকারী, পরে কিংবদন্তী শচীন দেব বর্মনের অধীনে কাজ করেছেন সঙ্গীত নিয়ে। ১৯৪৩ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘তামান্না’র মধ্য দিয়ে গায়ক হিসেবে অভিষেক। এরপর ভীমসেন জোসির সঙ্গে ‘কেতকী গুলাব জুহি’ কিংবা বিখ্যাত ‘শোলে’ সিনেমায় কিশোর কুমারের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে ‘ইয়ে দোস্তী হাম নেহী তোড়েঙ্গে’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় হিন্দি গান উপহার দিয়েছেন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ৩৫০০ গান করেছেন মান্না দে।

জীবনঘনিষ্ট কথা আর অসামান্য গায়কীতে উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের পুরো জীবনজুড়ে আচ্ছন্ন করে রেখছেন মান্না দে। বাংলা গানে তার পদার্পণ ‘কতদূরে আর নিয়ে যাবে বল’ এবং ‘হায় হায় গো রাত যায় গো’ গানের মাধ্যমে। উদ্দাম আর প্রেমময় তারুণ্য বুঁদ হয়ে থেকেছে ‘যদি কাগজে লেখ নাম’, ‘চাঁদ দেখতে গিয়ে আমি তোমায় দেখে ফেলেছি’ কিংবা ‘তুমি কি সেই আগের মতোই আছো’, ‘পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেই দিন’ এর মতো তার অসংখ্য গানে। আবার এই তারুণ্য যখন বিচ্ছিন্ন হয়েছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে, কর্মব্যস্ত একঘেয়ে জীবন ফেলে আসা বন্ধুদের কথা ভেবে নস্টালজিক হয়েছে- তখনই আশ্রয় খুঁজেছে মান্না দের কাছে। সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাংলা গান হিসেবে স্বীকৃত ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা…’ যেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিটি মানুষের ভেতরের কথাকে ধারণ করে আছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন