মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড পেলেন তিন বাংলাদেশি
মোহনানিউজ ডেস্ক: সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘সেন্ট মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন তিন বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার (ইজেডসিসি)-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদেরকে এই সম্মাননা দেন মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড কমিটি। পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারতীয় ব্যক্তিত্বরাও ছিলেন।
সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মহম্মদ মিজানুর রহমান, গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর প্রতীক গোলাম দস্তগির গাজী এমপি এবং থার্মাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কবীর মোল্লা। এই বিভাগে আরও সাত ভারতীয়কেও এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এদিন উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল ও মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড কমিটির চিফ প্যাট্রন শ্যামল সেন, ওই কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্থনি অরুণ বিশ্বাস, পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্ত প্রমুখ।
এদিন ‘মাদার তেরেসা রত্ন’ পুরস্কারে ভূষিত হন প্রয়াত ভাস্কর আদিত্য। এছাড়াও শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, চিকিৎসা, রাজনীতি, প্রশাসক, সেরা স্কুল, সেরা কলেজসহ একাধিক ক্ষেত্রে সেরাদেরকে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য এবার আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজীসহ চার জন।
মাদার তেরেসার নামাঙ্কিত এই পুরস্কার পেয়ে সুফি মহম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আজকে মাদার তেরেসা কমিটি যে অমূল্য ভূষণে ভূষিত করেছে তাতে আমরা অনুপ্রাণিত ও অভিভূত! এর কোনো ভাষা নেই। আমরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ ঘটনাকে স্মরণ রাখবো। মাদার তেরেসা যেভাবে তাঁর সমস্ত জীবনকে আর্ত-মানবতার জন্য উৎসর্গীকৃত করে গেছেন, আমরা যেন প্রত্যেকে সেই ধারাকে অব্যাহত রেখে আমাদের জীবনকে সেই পথে নিয়ে যেতে পারি, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। আজ আমরা অনেক সৌভাগ্যবান, আনন্দিত ও গর্বিত।
থার্মাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা জানান, আমার ক্ষুদ্র জীবনে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে অনেক পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু আজকের মাদার তেরেসা পুরস্কার আমায় অনেক উৎসাহিত করেছে। এই পুরস্কার আমার উন্নয়নমূলক কাজকে আরও বেগবান করবে। পাশাপাশি আগামীতে আমাকে আরও প্রস্তুত করবে।
গোলাম দস্তগির গাজী জানান, যে কোনো পুরস্কার সবসময়ই আনন্দের। আর সামাজিক কাজে আমরা সবাই মাদার তেরেসাকে অনুসরণ করে আসছি। তাই তাঁর নামাঙ্কিত পুরস্কার পেয়ে আমি খুবই অনুপ্রাণিত।