গরিবের কান্না সবাই শুনে, মধ্যবিত্তেরটা থাকে ঘরবন্দি
করোনাভাইরাসের কারণে গৃহবন্দি হয়ে এক মধ্যবিত্ত ঘরে তিন ধরে খাবার ছিল না। মা-মেয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই মেয়েটি থানার ওসিকে ফোন দিয়েছে খাবারের জন্য। ওসির ফোন পেয়ে সেই পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দেয় এক ছাত্রলীগ নেতা। সেখান থেকে ফিরে ছাত্রলীগ নেতা ব্যথিত সুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন-গরীবের কান্নার আওয়াজ সবাই শুনে, মধ্যবিত্তের কান্নার আওয়াজ ঘরে বন্দি থাকে।
এ রকমই এক বিধবা নারী তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিল। ঘরে খাবার নেই, এক পর্যায়ে আত্মসম্মানের কথা চিন্তা না করে মেয়েটি থানার ওসিকে ফোন দিয়েছে খাদ্য সহায়তার জন্য। এমন ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। পরে ওসির ফোন পেয়ে ওই বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোরশেদুল আমিন বাবু।
খাদ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে ওই পরিবারের সম্পর্কে জানতে পেরে ছাত্রলীগ নেতা বাবু ব্যথিত হলেন। অন্যান্য মধ্যবিত্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে ফেসবুকে দিয়েছেন স্ট্যাটাস। সেটি হলো-‘ প্রিয় ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়বাসী। যারা মধ্যবিত্ত পরিবার আছেন, যারা চক্ষু লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। আপনার প্লিজ নিজের সন্তান মনে করে, নিজের ভাই মনে করে আমাকে ফোন দিবেন। আমি কথা দিচ্ছি, আপনার পরিচয় শতভাগ গোপন থাকবে। রাতের আঁধারে আমি আপনার বাসায় খাবার দিয়ে আসব। মোবাইল- ০১৭১৭৫০১৩৫৭
একই সঙ্গে ওই মধ্যবিত্ত পরিবারটির সম্পর্কে হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দেন ছাত্রলীগ নেতা। স্ট্যাটাসটি হল- ‘গরিবের কান্নার আওয়াজ সবাই শুনে, মধ্যবিত্তের কান্নার আওয়াজ বন্দি থাকে ঘরের মধ্যে। আজ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের রাজস্বাক্ষী হয়েছি। রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন মহোদয় আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, তোমার পাশের গ্রামের একটি মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে খাদ্যসহায়তা চেয়েছে। তুমি দ্রুত ওই পরিবারকে কিছু খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিবা। তবে মনে রাখবা, উক্ত পরিবারের কথা কেউ যেনো না জানে।
আমি কিছু খাদ্য সহায়তা নিয়ে ওই পরিবারের বাড়িতে যাই। বাসায় দরজার নক দিয়ে বললাম, ওসি মহোদয় পাঠিয়েছে। ঘরে আছে এক বিধবা মা আর তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া এক মেয়ে। শুনলাম, তাদের কথা তারা আগে ঢাকায় থাকত। মেয়ের বাবা ঠিকাদার ছিলো। অনেক অর্থসম্পদ ছিল। এক কথায় স্বচ্ছল পরিবার। মানুষকে যাকাত দিত। এক ভাই এক বোন ছিলো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি বাবা হঠাৎ করে মারা যায়। পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। কিছুদিন পরে একমাত্র ভাইও অসুখে মারা যায়। তারা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসে। মেয়েটি ভর্তি হয় লক্ষীপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। কোনো রকম বিধবা মা আর মেয়ের চলছে জীবনযুদ্ধ।
মেয়েটি যথাসম্ভব টিউশনি করে চলে। করোনাভাইরাসে আক্রমণের পর সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েটি বলে ভাইয়া, আজ তিন দিন পর্যন্ত আমাদের বাসায় কোনো খাবার নেই। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে ওসি স্যারকে ফোন দিলাম। ধন্যবাদ ওসি স্যারকে।
আমি সাথে সাথে লামচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহেনারা পারভিন পান্না আন্টিকে বিষয়টি বলি, উনি কথা দিয়েছে এই বিধবা মাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিবেন এবং সরকারের সকল সহায়তা প্রদান করবেন। আমি কথা দিয়ে আসছি, আমি বোনটির লেখাপড়া খরচের জন্য আমার সাধ্যমতো চেস্টা করব। ধন্যবাদ ওসি মহোদয়কে।’