কার মদদে রামগঞ্জে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ট্রলি?
রামগঞ্জ সংবাদদাতা: রামগঞ্জে কয়েক শত অবৈধ ট্রলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক । নামেমাত্র বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নিরবতা পালন করছেন স্থানীয় প্রশাসন। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, কার মদদে চলছে ট্রলি?
উপজেলার প্রায় ২৭ টি ইটভাটা মালিক মাটি, ইট বহনে মাধ্যম হিসেবে সড়ক মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অবৈধ ট্রলি। ইটভাটাগুলো রামগঞ্জে পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলে জোট- মহাজোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বসবাস। ইটভাটাগুলো সরকারি কোন নীতিমালা মানছেন না। সরকারি সম্পত্তি বেদখল, ডাকাতিয়া সংযোগ খাল কেটে মাটি উত্তোলন, খালে কেউ ওয়াল গেঁথে, মাটি বহনে বাধঁবেধে, কৃষি উৎপাদনে ত্রানের ব্রিজ দুপাশে মাটি ও ইটভাটার ছিমনি দিয়ে বেদখল করছেন।
কৃষি জমি রক্ষার্থে সরকার সর্বোচ্ছো বরাদ্দ দিলে রামগঞ্জে লাখ লাখ একর কৃষি জমি পাঁচ ফুট গভীর করে মাটি যাচ্ছে ট্রলির মাধ্যমে ইটভাটা। উপজেলা কর্মকর্তা নিরবতা পালন করছেন। পরিবেশ ভারসাম্য বিপন্ন করছেন ইটভাটা কালো ধুঁয়া, কাট বাঁশ, গাদ,রাবার ব্যবহার করছেন ইটভাটা মালিকগন। পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা জন্য কাহারো নজরদারি নেই।
![]()
প্রতিশ্রুতি রযেছে রামগঞ্জে হাতেগণা ৫/ ৬ টি ব্যতিত বাকী ইটভাটা গুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেই। সংশিষ্ট দপ্তর গুলোকে ম্যানেজ করতে প্রতিটি ইটভাটা মালিক বছরের পরিবেশ অধিদপ্তর সহ জেলা,উপজেলা সহ ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলোতে বিট দিচ্ছেন। বিটের পরিমান কমাতে ইটভাটার মালিক ও ট্রলির মালিক সমিতি গঠন করেছেন। দুই জন ইটভাটা মালিক বলেন সমিতি করার কারণে ইটভাটা ও ট্রলি ব্যবহার সংশিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করতে পূর্বে ছেয়ে প্রায় তিন গুন ব্যায় কমেছে। এখন আর ভ্রাম্যমান আদালত সহ প্রশাসন অভিযান নিয়ে চিন্তের কারণ নেই।
প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইট ভাটা গুলোর ৬/৭ জন একসময়ে নৌকার মাঝি, দিন মজির ছিলেন। নাম লিখতে হিমশিম খাচ্ছেন, একটি ভাটা মালিক থেকে এখন ২টি ভাটার মালিক হচ্ছেন। ঢাকায় তাহাদের নামে রয়েছে শতকোটি টাকার একাধিক বহুতল বাড়ী,প্লাট,সম্পত্তি, দোকান সহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ইটভাটা ম্যানেজার সহ মাঝি,ম্রমিকদের মতে প্রতি বছরে প্রতিটি ইটভাটা দুই কোটির অধিক ইট পোড়ানো হয়। প্রতিটি ইটে খরছ ব্যতিত প্রায় অর্ধেকের বেশী লাভ পাওয়া যায়। ইট ভাটার মালিকেরা সরকারকে ভ্যাট দিয়ে ভাটা চালাচ্ছেন বলে গলা ফাটিয়ে দিলেন।
তাহাদের সম্পদের হিসেবে মেলানো দুদকের প্রয়োজন বলে সচেতন মহলের জানাচ্ছেন।
ইটভাটা মালিকসহ ট্রলির মালিকদের দম্ভোক্তি মিডিয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঁচ গুন বিট দিচ্ছেন। মিডিয়া কর্মিরা গলা ফাটালে ট্রলি,আর মাটি কাটা বন্ধ হবে না। গতকাল পানিয়ালা কমার রোর্ডে পূর্বে ভাটরা রামশিংপুর মিরি বাড়ির সামনে জিবিএম ইটভাটা মালিকের ট্রলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। পানিয়ালা দশঘরিয়া বাজার সড়কের পানিয়ালা,আকারতমা,দুধরাজপুর, টিউরী,ভোলাকোট সহ মোতালেব ইটভাটা সামনে পর্যন্ত, পানিয়ালা চিতোষী সড়কের সোনাপুর পর্যন্ত, দেহলা ডিপজলের ইটভাটা থেকে আলীপুর ব্রিজ, শৈরশৈই বাজার থেকে নোয়াগাঁও বাজার, সাউধেরখিল থেকে কলছমা পর্যন্ত কালু মাঝির দুইটি ইটভাটা, কাটাখালী এইচটিসি,পানিয়ালা কমার রোর্ড থেকে কোমরতলা জিবিএম, পানিয়লা থেকে দক্ষিনে রামশিংপুর গ্রামের সড়কে আলমগীর ইটভাটা পর্যন্ত সড়ক গুলো ইটভাটা মালিকদের দখলে। সাধারণ মানুষের জানমাল,পরিবেশ রক্ষার কথা কেউ চিন্তে করেননি।
কামার রোর্ডের দক্ষিনে হিরাপুর চৌকিদার বাড়ির কামাল ও তার বড় ভাই জানান আমার বাড়ির সামনে দিয়ে বছরের ৬ মাস শতশত ট্রলির দাপটে বাড়িতে বসবাস করা কষ্ট হচ্ছে। খাবার খেতেও ধুলাবালি সহ খেতে বাধ্য হয়েছেন। বেপরোয়া ট্রলির গতিবেগ, বিকট শব্দ, ধুলাবালির কারণে রামগঞ্জে সড়ক মহাসড়ক গুলোতে যানবাহন মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছেন। এসব সড়ক গুলোতে ইটভাটার মালিকেরা দখলে নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মুঠোফোন জানান ট্রলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপরে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপ্তি চাকমা বলেন এসিল্যান্ড যোগদান করতে যাচ্ছে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রাট সহ অভিযান চালিয়ে যাওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।