নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ৩:০৫ অপরাহ্ণ

মোহনানিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পরিকল্পনা নতুন বছর শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তর কর্মসূচির ব্যাপারে ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুনর্বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম রোববার (১৮ নভেম্বর) রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন।

আবুল কালাম বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা শরণার্থী শিবির থেকে ভাসান চরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নতুন বছর না আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তিনি এ-ও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, নির্বাচন সামনে, নির্বাচনের পর সরকার ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে।

তিনি জানান, ভাসানচরে পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষিকাজ ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকায় কোনো কোনো রোহিঙ্গা সেখানে যেতে সম্মত হবে।

গত অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার চুক্তিবদ্ধ হয়। ১৫ নভেম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তালিকায় থাকা রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব এবং তাদের আসল গ্রাম ও ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার অধিকার না পেলে ফিরে যেতে সম্মত নন।

আবুল কালাম আরো  বলেন, রোহিঙ্গাদের দাবি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন শুরু করতে ‘নতুন পদক্ষেপ’ নেয়া প্রয়োজন। যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, সরকারের নয়। তিনি মনে করেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চাইলে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে একটি পরিষ্কার দিক-নির্দেশনা প্রস্তাব করতে হবে। আগামী মাসে প্রত্যাবাসন বিষয়ক পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক সভায় তিনি বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে তাদের ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ। তবে জোর করে বাংলাদেশ কাউকে ফেরত পাঠাতে চায় না।

রোববারে কালামের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানতে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও তাইকে পায়নি রয়টার্স।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী- ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গাদের দাবি, সেনা সদস্য ও বৌদ্ধরা তাদের পরিবারকে হত্যা করে, অনেক গ্রাম পুড়িয়ে দেয় এবং গণধর্ষণ করায় তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন