রামগঞ্জে ৩৫ কৃষকের জমি দখল করে পুকুর, যুবলীগ নেতার সাজা

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখল করে পুকুর কেটে খামার তৈরি ও চাঁদা দাবির মামলায় যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম জুয়েলকে ১ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার ২ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩ নং আদালতের বিচারক নুসরাত জামান এ রায় দেন। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নাজির ইয়াসিন আরাফাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাদী সৈয়দ আহম্মদ রেদোয়ানের আইনজীবী রেজাউল করিম রাজু পাটওয়ার বলেন, আসামি জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এতে আদালতে বিচারক তাকে ৩২৩ ও ৩৭৯ ধারায় সাজা প্রদান করেছেন।

সূত্র জানায়, আসামি জুয়েল অন্য একটি মামলায় (সিআর ২২৩/২২) প্রায় দেড় মাস কারাবন্দি রয়েছেন। রোববার তাকে উপস্থিত করা হয়নি। মামলাটির শুনানির তথ্য কারাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এতে তার অনুপস্থিতেই রায় ঘোষণা করেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত জুয়েল রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ভোলাকোট গ্রামের পূর্ব ভূঁইয়া বাড়ির সৈয়দ আহাম্মদের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক বহিস্কৃত সদস্য। কয়েক বছর ধরে জুয়েল রাজনৈতিক দাপটে ভোলাকোট ও আশপাশের গ্রামের লোকজনকে অনেকটা জিম্মি করে রেখেছে। এতে তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে ‘জুয়েল বাহিনী’ নামে পরিচিত।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন মাঈন উদ্দিন কাজল, ফারুক হোসেন, মমিন উল্যা, মোবারক। তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ভোলাকোট গ্রামের বাসিন্দা ও দণ্ডপ্রাপ্ত জুয়েলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্র জানায়, বাদী রেদোয়ান রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ভোলাকোট গ্রামের আবদুল আজিজ ভূঁইয়ার ছেলে। চাকরির সুবাধে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। ভোলাকোট গ্রামে তার ৭৬ শতাংশ জমিতে তিনি লোকজন দিয়ে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করতেন। ২০২২ সালের মে মাসে তিনি জানতে পারেন যুবলীগ নেতা জুয়েল তার জমি দখল করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি ও পুকুর কেটে খামার করছেন। এতে ২৭ মে তিনি ওই জমিতে পৌঁছে বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েলসহ অভিযুক্তরা তাকে মারধরের পর ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় ২ জুন তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রামগঞ্জ আদালতে জুয়েলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আদালত নোয়াখালী জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

একই বছর ৩০ আগস্ট নোয়াখালী জেলা পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে জোরপূর্বক কৃষকদের জমি কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি ও পুকুর কেটে খামার তৈরির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তরা অসহায়দেরকে কোনঠাসা করে রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে চাঁদা দাবির ঘটনার সত্যতা পায়নি পিবিআই। তবে জুয়েলের বিরুদ্ধে উপজেলার ভোলাকোট গ্রামে সৈয়দ আহম্মদ রেদোয়ানসহ ৩৫ কৃষকের প্রায় ৪০ ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করে তৈরির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ নিয়ে তারা জুয়েলের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে প্রশাসনের দারস্থও হয়েছেন। এতে গত বছর ৯ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত জুয়েলকে কারাদণ্ড ও অন্য ৪ জনকে খালাস দিয়ে রোববার রায় ঘোষণা করেন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন