লক্ষ্মীপুর-২ আ.লীগের প্রার্থী নয়ন, আনন্দ মিছিল-মিষ্টি বিতরণ
নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৬ টার দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়। পরে নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। রায়পুর উপজেলা শহরেও আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে নেতাকর্মীরা।
নয়ন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
আনন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুল হাসান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইমতিয়াজ, জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব বেলাল হোসেন ক্বারী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব রেজাউল করিম রিয়ানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।![]()
দলীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নয়ন ছাড়াও ৬ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন ‘আমরা ক’জন মুজিব সেনা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এএফ জসিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. এহসানুল কবীর জগলুল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নেওয়াজ শরীফ, রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শাহিন বাহাদুর মোকতাদির এবং আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত কাজী শহীদ ইসলাম পাপুরের সহধর্মিনী সেলিনা ইসলাম।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কুয়েতে পাপুলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরুতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই মামলায় তিনি কুয়েতে গ্রেপ্তার হন। ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি পাপুলকে কুয়েতের আদালত সাজা দেয়। এতে একই বছর ১৩ মার্চ আসনটিতে আওয়ামী লীগ নেতা নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে নৌকার টিকেট দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিলের উপনির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আবুল খায়ের ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত কারণে আসনটিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোহাম্মদ নোমান সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির নোমানকে জোটগত কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে নোমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত পাপুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।