কমলনগরে জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের নামে জেলে কার্ড !
কমলনগর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভিন্ন পেশার মানুষকে জেলে বানানোর অভিযোগ উঠেছে। বংশ পরম্পরায় জেলে, মাছ শিকার ছাড়া যাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই, সেই প্রকৃত জেলেরাই সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত হতে পারেননি।নিবন্ধন না থাকায় কোনো খাদ্য সহায়তাও তারা পান না।
আবার কার্ডধারী হলেও টাকা না দিতে পারলে তাদের নাম তালিকায় থাকে না। জীবনে একবারের জন্যও যাননি নদীতে মাছ ধরতে , তবে তারাই নিবন্ধিত জেলে।জেলে তালিকায় সবার আগে তাদের নাম।
জেলে তালিকায়,ইউপি সদস্য ,চৌকিদার, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, নাপিত, কৃষক -শ্রমিক, রিক্সা ড্রাইভার ,গাড়ি ড্রাইভার ,কারোরই নাম বাদ নেই। এতে করে প্রকৃত অসংখ্য জেলেরা সরকারের দেওয়া জেলেদের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কথা হয় চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ রুহুল আমিনের সাথে, তিনি ৩০ বছর জেলে পেশায় আছেন, কিন্তু তার জেলে কার্ড নেই, না থাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মত অনেক জেলে নদীতে মাছ দরে তাদের জেলে কার্ড নেই,কিন্তু যারা নদীতে মাছ ধরে না,তরে থাকে, এরকম অসংখ্য মানুষের জেলে কার্ড আছে। একই রকম অভিযোগ করেন কালকিনির জসিম,সাদ্দাম হেলাল,চর মার্টিনের ইউনিয়নের,শাহাজান,মিরাজ,আবুল কালাম।
জেলেদের তথ্য মতে,তালিকায় ভুয়া জেলে রয়েছে কয়েক হাজার আবার প্রকৃত জেলেও বাদ পড়েছেন কয়েক হাজার।পাটারিরহাট ইউনিয়নের পাটারিরহাট বাজারের পাটোয়ারী রেস্টুরেন্টের মালিক মহিবুল উল্লাহ পাটোয়ারী। দীর্ঘ বহু বছর যাবত তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িত।
মহিবুল উল্লাহ পাটোয়ারীর নামে রয়েছে জেলে কার্ড।একই বাজারের স’মিল ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজ, ইসলামগঞ্জ বাজারের মুদি দোকানদার দুলালের রয়েছে জেলে কার্ড।
সাহেবের হাট ইউনিয়নের মাকসুদুর রহমান রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, আবু চিদ্দিক চৌকিদার,নুর নবী দুলাল পল্লি চিকিৎসক, জাহিদুর রহমান প্রবাসী, ,মরনশীল সেলুন ব্যবসায়ী, নুর নবী ব্যবসায়ী, মাকছুদুর রহমান মেডিকেল প্রমোশন অফিসার কিন্তু সবার নামে রয়েছে জেলে কার্ড।কালকিনি ইউনিয়নের মোঃরফিকুল ইসলাম কালকিনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, শামিম ব্যবসায়ী,মোঃ আমজাদ হোসেন কোটিপতি ব্যবসায়ী,মোঃমনির হোসেন খাদ্য বান্দর কর্মসূচীর ইউনিয়ন ডিলার,সামিম ব্যবসায়ী, মোঃ হান্নান ব্যবসায়ী, মোঃশাহাজান ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার তাদের সবারই নামে রয়েছে জেলে কার্ড।চর মার্টিনের মোঃসিরাজ, মোঃআনোয়ার কখনো যান নি নদীতে যান নি মাছ ধরতে তাদেরনামে আছে জেলে কার্ড। মার্টিন ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হানিফ মোল্লা তিনি জেলে নয় তার নামে রয়েছে জেলে কার্ড,গত বছর জেলেদের সহায়তায় জন্য দেওয়া গরু পেয়েছেন তিনি।
একইচিত্র দেখা যায়,১নং চর কালকিনি, ২নং সাহেবের হাট ইউনিয়ন,৩নং চর লরেঞ্জ ইউনিয়ন, ৪নং চর মার্টিন ইউনিয়ন, ৫ নং চর ফলকন ইউনিয়ন, ৬নং পাটাওয়ারির হাট, ৭নং হাজির হাট, ৮নং চর কাদিরা, ৯নং তোরাব গঞ্জ ইউনিয়ন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, জেলে নয় জেলে তালিকায় নিবন্ধিত হয়ে থাকলে, যদি আমাদের কাছে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সহ প্রমাণিত হয়, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
কালকিনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি জেলেদের নেতৃত্ব দেন তাই তার নামে জেলে কার্ড আছে , তবে তিনি সরকারি কোন সহায়তা নেন না।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ডিলার মোঃ মনির হোসেন জানান তার নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য থাকায় তার নামে জেলে কার্ড,এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
উপজেল সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস প্রতিবেদক কে বলেন,জেলে নয় জেলে তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে এইরকম এক হাজার জেলে হলেও নিবন্ধন তালিকা থেকে বাদ দেব।