লক্ষ্মীপুরে শীতের সঙ্গে মোয়া বিক্রিও বেড়েছে
মুড়কি-মোয়া বাঙালির ঐতিহ্য। শীতের সকালে নাস্তার টেবিলে মুড়ির মোয়া না থাকলে যেন জমেই না। তাও আবার হাতে বানানো। শহুরে জীবনে এর তেমন কদর না থাকলেও গ্রামে রয়েছে বেশ। গ্রামাঞ্চলে সকালের নাস্তার পাশাপাশি বিকেলেও চায়ের টেবিলে দেখা মেলে মুড়ির মোয়ার। শীত আসতেই লক্ষ্মীপুরেও বেড়েছে হাতে বানানো মোয়ার কদর। ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
জেলা শহরের সমসেরাবাদ জোড়দিঘির পাড়, দালাবাজার, ভবানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয় মুড়ির মোয়া। কোথাও ফেরি করে কিংবা দোকানে বিক্রি হচ্ছে শীতের এ নাস্তা। বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ ভালো। লক্ষ্মীপুর শহরের গেঞ্জিহাটা সড়কে মোয়ার প্রধান আড়ত। এখানে পাইকারির পাশাপাশি খুচরাও বিক্রি হয়।
গ্রামাঞ্চলে শীতের শুরুতেই কৃষকের ঘরে আসে নতুন ধান। আর নতুন চালে মুড়ি ভেজে অনেকেই মোয়া বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। চাহিদা থাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলেন বাজারে। আবার অনেক নারীরা নিজেদের নাস্তার প্রয়োজনে তৈরি করেন মুড়ির মোয়া।
অতিথি আপ্যায়নে এ শহরে মুড়ির মোয়ার জুড়ি নেই। বাজারে এলেই দেখা মিলবে বিভিন্ন স্থানে। শীত এলে নাস্তা হিসেবে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতেও উপহার হিসেবে পাঠানো হয় মুড়ির মোয়া।
মোয়া বানানোর কারিগর হরিশচন্দ্র জানান, শীত যতই ঘনিয়ে আসছে ততই হাতে বানানো মোয়ার কদর বাড়ছে। বাজারে মুড়ির বদলে প্রায় সবাই মোয়া কিনে নেন বাড়িতে। গিগজ ও দেশীয় জাতের ধানের মুড়ি দিয়ে তৈরি হয় এ মোয়া। বাড়িতেও নিজেরা বানিয়ে পরিবেশন করেন নারীরা। লক্ষ্মীপুর শহরের জনপ্রিয় পৌর শহরের জোড়দিঘির পাড় এলাকার মোয়া।
মোয়া ব্যবসায়ী কার্তিক সেন বলেন, শীতের সময়ে মোয়ার কদর বেড়ে যায়। আর বছরে একবার মোয়া তৈরি হয়। এ সময় মুড়ির চাহিদা কমে যায়। শীতের শুরুতেই মোয়া বেচা-কেনা করছি। কেজি প্রতি মোয়া বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকায়। প্রতিদিন এক থেকে দেড় মণ মোয়া বিক্রি করা হয়। লক্ষ্মীপুরের তৈরি মোয়া জেলা শহরের চাহিদা মিটিয়ে রামগতি, কমলনগর, রায়পুর, রামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এছাড়া জেলার বাইরেও এসব মোয়া যায়।
যেভাবে বানানো হয় মুড়ির মোয়া: প্রথমে মৃদু আঁচে কড়াই বসিয়ে অল্প পানিসহ গুড় জ্বালাতে হবে। গুড় গলতে শুরু করলে সামান্য পানির ছিটা দিতে হয়। এবার গুড় কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে আঠালো করতে হবে। গুড় আঠালো হয়ে গেলে মুড়ি দিতে হবে। গুড় ও মুড়ি ভালোভাবে নেড়ে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার নামিয়ে হালকা ঠাণ্ডা হলে হাতের তালুতে সামান্য ঘি মেখে সহনীয় গরম থাকতেই ভালোভাবে চেপে হাতের তালুতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মোয়া বানাতে হবে। পরবর্তীতে হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তৈরি হয়ে যায় স্বাদের মোয়া।