টাঙ্গাইলে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার পরই শিশুর মৃত্যু
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার পর পিয়া (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত পিয়া উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের গানজানা গ্রামের বাহাজ উদ্দিনের মেয়ে।
সোমবার (৪ জানুয়ারি ) সকালে উপজেলার গানজানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রাপ্ত হাম রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৪ জানুয়ারি চলবে। নয় মাস বয়স থেকে দশ বছরের শিশুদের এ টিকা দেওয়া হয়।
নিহত পিয়ার ভাই ফরমান জানান, তার বোনের বয়স ১০ বছর ৫ মাস। সকালবেলা বাড়ির পাশে সাথীদের সাথে খেলা করছিল পিয়া। কাউকে কিছু না জানিয়ে খেলা থেকে অন্য শিশুদের সঙ্গে গানজানা সূর্যের হাসি ক্লিনিকে সে টিকা দিতে যায়। পরে টিকা দিয়ে যাওয়ার পথে মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে অসুস্থ্য অবস্থায় সাথীদের নিয়ে সে বাড়ি আসে। বাড়িতে এসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধলাপাড়া ‘সিকদার মেডিক্যাল হল’ ফার্মেসিতে নিয়ে যান তার পরিবারের লোকজন। সেখানে সৈকত নামে এক স্বাস্থ্য সহকারি রোগি দেখে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফার্মেসিতে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারি সৈকত বলেন, রোগীর অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। তাই ডেক্সামেটাসন ইনজেকশন পুশ করা হয়। এটা অন্য যে কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঠেকাতে দেওয়া হয়। আর ওই মেয়েটার আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল, আমিই চিকিৎসা করে আসছিলাম।
টিকা কার্যক্রম ওই এলাকায় মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফিল্ড সুপারভাইজার মনোয়ারা সুলতানা বলেন, টিকা দেওয়ার পর শিশুটি সুস্থ স্বাভাবিক ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায় সে শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত ছিল। তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান জানান, হাম রুবেলা ভ্যাকসিনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। পিয়া যে হাঁপানী রোগি ছিল তা জানা ছিলনা। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার প্রতিনিধিসহ সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভ্যাকসিনে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। দাফনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।