চলছে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

মোহনানিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৭ বছর পর আজ মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। আনন্দ বিরাজ করছে দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও।

 

সকাল থেকে মিছিল নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ষ্টেডিয়ামে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে নেতাকর্মীরা। জেলার সকল ইউনিট থেকে অর্ধলাখ নেতাকর্মী জড়ো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলনকে সফল করতে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট প্রস্তুতি মূলক সভা করেছেন।

 

এদিকে নিজেদের প্রছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি-সধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চেয়ে বিলবোর্ড আর ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরাণ নির্মাণ করেছে নেতাকর্মীরা। সাজ সাজ রব বিরাজ করছে সর্বত্রে। জেলার ৪টি আসনে নৌকা বিজয় করতে দলের ত্যাগী ও পারিশ্রমিক নেতাকে পদে দেখতে চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পদ বাণিজ্যের সাথে জড়িতদেরকে নেতৃত্ব না দেয়ার দাবি দলীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৫ সালের ৩ মার্চ। ওই সময়ে গোলাম ফারুক পিংকু’কে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর পর অবশেষে ঐতিহ্যবাহি এ সংগঠনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। জেলা স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বিশেষ অতিথি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া ও প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, বিশেষ বক্তা হিসেবে আরো থাকছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

 

এদিকে প্রায় অর্ধলাখ লোকের সমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়ে সম্মেলনকে সফল করতে ৭টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ। মাঠের পূর্ব পাশে মঞ্চ তৈরীর কাজও অনেকটা শেষ পর্যায়ে। সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা বিরাজ করছে। শহরজুড়ে পদ-প্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। সড়কে সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক তোরণ। কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা ও নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার প্রচারনায় এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে সর্বত্রে। এ সম্মেলনে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতারা। বর্ধিত সভা ও তৃণমূল প্রস্তুতি সভাসহ বর্ণ্যাঢ্য আয়োজনের কর্মযজ্ঞে আর তদবির লবিংয়ে এখন ব্যাস্ত রয়েছে সবাই। শীর্ষ দুই পদ (সভাপতি ও সম্পাদক) পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রার্থী হয়েছেন অন্তত এক ডজন নেতা। তবে নেতৃত্বে আসছেন কারা এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় মুখরিত হয়ে পুরো জেলায় রাজনৈতিক মাঠ বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে বর্তমানে। অন্তত এক ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে আলোচনায়।

 

এর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সগ-সভাপতি মোঃ শাহজাহান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম এ হাসেম, বর্তমান সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কু, সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিমও আলোচনায় রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাঠের কর্মী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি, দূর্নীতি ও অপরাজনীতি মুক্ত নেতৃত্ব গঠনের স্লোগান নিয়ে রাজনৈতিক সক্রিয় কর্মী হিসেবে আমরা ক’জন মুজিব সেনার প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ এফ জসীম উদ্দিন আহমদের নামও শোনা যাচ্ছে বেশী, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা পাটওয়ারী, জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ, পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভুঁইয়া, জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্নাও আলোচনায় আছে।

 

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে উৎসাহের কমতি নেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। এদের কেউ কেউ বলছেন, বিগত সময়ে যারা পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তাদের বাদ দিয়ে দূর্দিনের পরীক্ষিত সাবেক ছাত্র নেতাদেরকে নতুন কমিটিতে মূল্যায়ন করতে হবে। কেউ বলছেন, বিএনপি-জামায়াতকে মাঠে প্রতিহত করতে শক্তিশালী কমিটি গঠনের বিকল্প নেই। প্রবীন-নবীনের সমন্বয়ে দক্ষ সংগঠকদের পদে আনার দাবী জানান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

 

অপরদিকে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নারীনেত্রী বীণা রহমান ও সুরাইয়া আক্তার বলেন, দলে নারীদের ৩৩ ভাগ অংশগ্রহনের কথা থাকলেও এথানে তা নেই। আগামী দিনের নতুন নেতৃত্বে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোসহ জেলার ৪টি আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে নারী নেতৃত্বকেও অগ্রাধিকার দেয়ার দাবী জানান।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি বলেন, অর্ধলাখ মানুষের সমাগমের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের এ যাবৎকালের সেরা ও সুন্দর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবার। সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দিপনা বিরাজ করছে। প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে কমিটি হতে পারে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দলের প্রয়োজনে শীর্ষ পদে যাকেই পদায়িত করা হয় ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনে নৌকাকে বিজয়ী করতে সকলে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন