সড়কে সাবধান: লক্ষ্মীপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই দিনে নিহত-৬

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১:৫৮ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে থেকে সদর উপজেলায় তিনটি স্থানে পৃথক দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্নি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুর থেকে নোয়াখালীর চৌমুহনী যাওয়ার পথে সদর উপজেলার আন্ডারঘর এলাকায় আনন্দ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।


এদিকে সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ঝুমুর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় এক কলেজ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মাইলের মাথায় দুইটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


এদিকে মাইক্রোবাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রায়পুরে স্কুলে যাওয়ার পথে ট্রাক চাপায় ফাহিমা আক্তার জুই (৯) নামে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে। এদিকে দুর্ঘটনায় ছাত্রীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিদ্যালয় ও সোনাপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে।


অন্যদিকে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টার দিকে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বটতলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন সিএনজি চালক মো. সুমন (২৭), সিএনজি যাত্রী জামাল উদ্দিন, মো. হোসেন, রুনু আক্তার ও তার শিশু সন্তান। শিশুটির নাম জানা যায়নি। এরমধ্যে হোসেন রাত ১০ টার দিকে নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত রুবি আক্তারকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


জানা গেছে, নিহত রুনু আক্তার, তার শিশু সন্তান ও আহত রুবি আক্তার নোয়াখালীর চাটখীল এলাকার বাসিন্দা। নিহত চালক লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মজুপুর এলাকার বাসিন্দা।


চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৩ জন মারা যান। হাসাপাতালে নিলে আরও একজন নিহত হন। রাত ১০ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জন মারা গেছেন।


লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, গত দুই দিনে পৃথক ৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন