লক্ষ্মীপুরে টাকা আত্মসাতের মামলা করায় বাদীকে হত্যার হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মামলা দায়ের করায় বাদী সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ মাসুদকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাসুদ বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রায়পুর আদালতে এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অচেনা ১২ জনের বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করেন।
বাদীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, অভিযোগটি আদালতের বিচারক তারেক আজিজ আমলে নিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আইনজীবী আরও বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর ৫ জনের নামে মাসুদ একই আদালতে আত্মসাত করা টাকা উদ্ধার ও হত্যার হুমকির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। তখন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরপর থেকেই মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদীকে মোবাইলফোনে ও সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন সৌদি প্রবাসী আনোয়ার হোসেন, মনোয়ার হোসেন, আজগর হোসেন, তাদের বাবা বাকা উদ্দিন পাটওয়ারী ও আত্মীয় নাজমুল করিম বাবলুসহ অচেনা ১২ জন। তারা রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামের বাসিন্দা। বাদী মাসুদও একই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার পাটওয়ারীর ছেলে।
ভূক্তভোগী মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ককে পুঁজি ও প্রতারণা করে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা আমার টাকা আত্মসাত করেছে। টাকা চাইলে তারা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। টাকা উদ্ধারসহ হত্যার হুমকির ঘটনায় আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া ষড়যন্ত্রমূলক মাদক মামলায় আমাকে ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এর থেকে বাঁচতে আমি আদালতে জিডি করেছি।
এজাহার সূত্র জানায়, ৩ বছর আগে অভিযুক্ত আনোয়ারের সঙ্গে মাসুদ সৌদির দাম্মাম শহরে সিগারেট ও জর্দাসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করেন। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। সে ব্যবসায় আনোয়ারের কাছে মাসুদ ৯৫ লাখ টাকা পাওনা হয়। এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথায় আনোয়ারের সঙ্গে তিনি ব্যবসা বন্ধ করে দেন। পরে মাসুদ আলাদাভাবে ব্যবসা শুরু করলে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে তার ক্ষতির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ষড়যন্ত্র করে তাকে সৌদি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়।
এদিকে জেলে থাকাকালীন তার ভাড়া বাসা থেকে অভিযুক্তরা আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ, ২৩ লাখ টাকার সিগারেট-জর্দা ও ৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার নিয়ে যায়। জেল থেকে বের হয়ে চলতি বছর ২৫ জানুয়ারি সাদ্দাম দেশে আসে। এরপর থেকে পাওনা ও মালামালের ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে অভিযুক্তরা দেবে বলে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করে। কিন্তু একাধিকবার সময় দিয়েও তারা টাকা দেয়নি। কোন টাকা দেওয়া হবে না বলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাসুদকে জানিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। এসময় টাকার জন্য বাড়াবাড়ি করলে মাসুদকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।