মান্দারীতে যুবলীগ নেতার ইন্ধনে রাতের আঁধারে বিধবার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের চতালিয়া গ্রামে মো. দিপু নামে ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার ইন্ধনে ফাতেমা নামে বিধবার বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ফাতেমা।

শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি তদন্তে যায় পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। তখন জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯- এ কল দিলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

 

ফাতেমা দক্ষিণ মান্দারীর চতালিয়া গ্রামের আকাব উদ্দিন হাজী বাড়ির মৃত মো. দুলালের স্ত্রী।

 

অভিযুক্তরা হলেন, মান্দারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দিপু (৩০), দিপুর মা ছায়েরা খাতুন (৫০) ও বোন রিনু বেগম (২০) ও তার মামা সাহাব উদ্দিন (৫০)।

 

ভুক্তভোগী এবং হামলাকারীরা একই বাড়ির বাসিন্দা এবং আত্মীয়।

অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের রাজনীতি করার সুবাদে সাবেক যুবলীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরে ছাত্র হত্যা মামলার প্রধান আসামি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুর সাথে তার সখ্যতা ছিল। সে প্রভাব বিস্তার করে পূর্বেও ভুক্তভোগীদের উপর নানা নির্যাতন ও হয়রানি করে দিপু।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা দিপুদের সাথে পূর্ব থেকে বিধবা ফাতেমার সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। বৃহস্পতিবার রাতে বিধবা ফাতেমা তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে দিপুর মা ছায়েরা খাতুন ও তার বোন রিনু বেগম ধারালো দা নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করে। দরজা এবং জালানা কুপিয়ে ছিদ্র করে।

 

ফাতেমা বলেন, ঘরে আমরা মাত্র তিনজন থাকি। রাতে যুবলীগ নেতা দিপু ও তার মামা সাহাব উদ্দিনের ইন্ধনে ছায়েরা খাতুন ও তার মেয়ে রিনু বেগম ধারালো দা নিয়ে আমাদের দরজা-জানালাতে কুপিয়ে আঘাত করে। আমরাদেরকে কাছে ফেলে কুপিয়ে হত্যা করতো। কিন্তু আমরা ঘর থেকে বের হইনি।

 

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও আমার উপর হামলা হয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত, কপাল, পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে হত্যার চেষ্টা করছে।

 

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি জানান, আমার শ্বশুর আবদুর রহমানের কাছ থেকে ১৯৯১ সালে আমার স্বামী দুলাল ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে। ওই জমিতে আমাদের ঘর ছিল। আমার স্বামী বাড়ির পাশে অন্য আরেকটি জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করলে আমরা সেখানে বসবাস শুরু করি। ওই জায়গা এবং ঘরটি ব্যবহারের জন্য আমার ভাসুর মৃত রফিক উল্যার পরিবারকে থাকতে দিই। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরকে থাকতে দেওয়ায় ভাসুরের স্ত্রী ও সন্তানরা ঘরসহ জমিটি দখল করে রাখে। তারা সেখান থেকে উঠে যেতে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমার স্বামী প্রবাসে ছিল, গেল বছর সে ক্যান্সারে মারা যায়। কিন্তু তার ক্রয়কৃত জমি ছেড়ে দেয়নি তারা। ওই জমি আমরা মুরাদ নামে একজনের কাছে বিক্রি করি। তাকেও দখল নিচ্ছে না তারা। দখল ছাড়ার জন্য দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় দখল তো ছাড়েই না, উল্টো আমাদের উপর দফায় দফায় হামলা করেছে। আমার ভাসুরের ছেলে দিপু যুবলীগের রাজনীতি করতো। সে কারণে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় আমাদের হামলা এবং ভয় দেখাতো। এখনো সে এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করে এবং আমাদেরকে হুমকি দেয়। আমাদের বাড়িতে হামলাকারী দিপুর বোন রিনু বেগমকে দিয়ে আমার ছেলে শরীফকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতেছে বলে আমরা জানতে পারি।

 

ফাতেমার ছেলে শরীফ বলেন, ঘটনার রাতে হামলার আওয়াজ শোনে আমরা বারান্দায় এসে দেখি তারা দা দিয়ে দরজা-জানালা কোপাচ্ছে। আমি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে রেখেছি। তারা আমাদেরকে বিভিন্নভানে হুমকি দিচ্ছে। যে কোন সময় আমদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, আবদুল মতিনসহ অনেকে বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। জমিটি ফাতেমার স্বামী দুলাল তার বাবার কাছ থেকে ক্রয় করে। কিন্তু সাহাব উদ্দিন ওই জমির দখল ছাড়ে না। উল্টো তাদের উপর হামলা করছে।

 

তারা আরও জানায়, সাহাব উদ্দিনরা ফাতেমা ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন লোকজনের সাথে ঝামেলা করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে পড়বে।

 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা দিপুর মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন