কাদের মির্জার হাতে ৪ ব্যবসায়ী লাঞ্ছিত

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২১ ২:২০ অপরাহ্ণ

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে চার ব্যবসায়ীকে মারধর এবং একটি মার্কেটে তালা মেরে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বসুরহাট বাজারের কলেজ রোড ও বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই চার ব্যবসায়ী হলেন- মোহাম্মদ আলী (৬৮), আব্দুর রহমান (৬৪) রহীম উল্যাহ রিটু (৩৪) ও মফিজুল হক মিন্টু (৫৯)।

তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ভয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ীরা জানান, কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বসুরহাট বাজারে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং বসুরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক পরিচালিত স্কাউট ভবন মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেল পার্কিং ও ফল দোকান থাকার অভিযোগে মার্কেটের প্রধান ফটকে তালা মেরে দেয়।

একই অভিযোগ এনে বসুরহাটের রূপালী চত্বরের পাশে কামাল চৌধুরী ও তার ভাই সফিউল চৌধুরীর মালিকানাধীন তানহা কমপ্লেক্স ও চৌধুরী কমপ্লেক্সে নামের দুটি মার্কেটে তালা মেরে দেয়। পরে দুপুরের দিকে তানহা কমপ্লেক্স ও চৌধুরী কমপ্লেক্সে মার্কেটের তালা খুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

লাঞ্ছনার শিকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রথমে কাদের মির্জা তার অনুসারীদের নিয়ে বাজারে আসেন এবং আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করেন। এরপর তিনি দক্ষিণ দিকে গিয়ে কয়েকটি দোকানের মালামাল ফেলে দেন, ভাঙচুর করান। ’

ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর তিনি আমার দোকানে এসে মালামাল ফেলে দেন। তারপর আমাকে গালাগাল দিয়ে কিল-ঘুষি মারেন। আমি দোকানের মালামাল গুছিয়ে রাখছি এমন সময় তিনি আবারও ফিরে এসে গালাগাল দেন, বলেন- তোর পোলার কাছে অস্ত্র আছে, তুই পোলারে লাগাই দিছস। ’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, ‘৪০ বছর ব্যবসা করি, এমন অপমান হইনি।

’ এ কথা বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কোনো অভিযোগ করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কার কাছে অভিযোগ করবো। অভিযোগ করলে আরও সমস্যা। ’

চৌধুরী কমপ্লেক্সের মালিক কামাল চৌধুরী বলেন, আসলে উনি চেয়েছেন এখানে যেহেতু ব্যাংক আছে তাই মার্কেটটা পরিষ্কার থাকুক। আজ শনিবার হওয়া সত্ত্বেও বাজারে অসংখ্য যানবাহন, স্কুটার ছিল। এ জন্য হয়তো ওনার মেজাজে লেগেছে।

মার্কেটে তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তালা মেরেছেন, আবার দুইটার দিকে খুলেও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমদের কোনো অভিযোগ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, ‘কী হয়েছে? কী সমস্যা? আপনারা কি আমাকে কোনো কাজ করতে দেবেন না?’

তিনি বলেন, ‘আমি দিনের পর দিন বাজারে হাঁটি ১০-১১টা পর্যন্ত। পরিষ্কার রাখার, এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। ওদেরকেও বারবার বলি। তাদের বিরুদ্ধে সামান্য অ্যাকশন নিলে আপনারা এগুলো নিয়ে যদি রাজনীতি করেন, লেখালেখি করেন, তাহলে এটা দুঃখজনক। আপনারা যা ইচ্ছে তাই লিখেন। ’

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন