কমলনগরের বিতর্কিত শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২২ ১০:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বিতর্কিত তৌহিদুল ইসলামকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়। একই কর্মস্থলে তিনি ১০ বছর চাকরি করছেন। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদের সই করা চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিঠিতে তৌহিদুল ইসলামকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়। তা না হলে একই দিন তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র ও অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার হাজিরহাট এলাকার নুরুল হুদা নামে এক ব্যক্তি তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এটি তদন্তের জন্য ২০২১ সালের ২৯ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, তৌহিদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২০১৩ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৬ জুন থেকে ২০১৪ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত রোকসানা আক্তার নামে অন্য একজন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তৌহিদুল ইসলাম তাকে (রোকসানা) অনুপস্থিত দেখিয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাছাই বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিজেকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। রোকসানা দায়িত্বকালীন সময় তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে তৌহিদুল বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এসব ব্যাপারে রোকসানাকে কিছুই জানানো হতো না। এভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করে তিনি কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পরিবহনের নামে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করতেন। কিন্তু সরকারের দেওয়া অর্থ তিনি আত্মসাত করতেন। তৌহিদুল ইসলামের প্রভাবে ২০১৬ সালের ৬ মার্চ যোগদানকালী শিক্ষা কর্মকর্তা আহছান উল্লাহ চৌধুরী বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেননি। ২০১৮ সালের ৫ মার্চ এফএম আবদুল ওয়াজেদ তালুকদার শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্বে তিনি থাকলেও তৌহিদুল ইসলামের কাছে জিম্মি ছিল। তিনি লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার দালালবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়ায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমাকে কেন বদলি করা হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে জানি না। কর্তৃপক্ষ চেয়েছে হয়তো এজন্য বদলি করেছে। তবে আমি বদলির জন্য আবেদন করিনি। তার বিরুদ্ধে চলা বিভাগীয় তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন