ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীকে দায়ী করলেন কাদের মির্জা

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২১ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের চলমান ঘটনা নিয়ে আবারও ফেসবুক লাইভে এসেছেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এবার চলমান পরিস্থিতির জন্য নিজের বড় ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীকে (এড. ইশরাতুন্নেছা কাদের) দায়ী করেছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জে অস্থিতিশীলতার জন্য একমাত্র দায়ী সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী (এড. ইশরাতুন্নেছা কাদের)। মন্ত্রীর ওপর তার স্ত্রী প্রভাব খাটাচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে অপরাজনীতির হোতা নোয়াখালীর এমপি একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনী এমপি নিজাম হাজারী ও তাদের সহযোগীরা। এরা মন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে, প্রভাব খাটিয়ে বিআরটি’এ লুটে-পুটে খাওয়া তার পিএ জাহাঙ্গীর প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নানা অনিয়ম করছে। নুরুল করিম জুয়েল ঢাকায় বসে এখানকার সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের (৯মার্চ) ঘটনায় পাঁচ শতাধিক গুলি ছুঁড়েছে সন্ত্রাসীরা। আমার কয়েকজন কর্মী এখনও মৃত্যুর সাথে লড়ছে। কেউ কোন খবর রাখেনি। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী আহতদের দেখতে গেছে এবং খোঁজ-খবর রাখছে।’ আলাউদ্দিন হত্যায় আদালতে মামলা দায়েরকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন মির্জা।

মামলায় তার ছেলে তাশিককে আসামি করার বিষয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমার ছেলে ঢাকায় আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। তার পরীক্ষা চলছে, সে ঢাকায়। তাকেও এ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছি। নেত্রী বিষয়টা দেখবেন বলেছেন।’

মির্জা নিজের অনুসারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনকে জানিয়েছি, প্রশাসনের সহযোগিতা না পেলেও আমি পূর্ব ঘোষিত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বাষির্কীর কর্মসূচিসমূহ নেতাকর্মীদের নিয়ে তাদের সহযোগিতায় পালন করব।

প্রসঙ্গত, গত দেড় মাস ধরে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সাথে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একাধিকবার দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গত মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সিএনজি চালক ও শ্রমিকলীগ কর্মী আলা উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এ দুই পক্ষের সংঘর্ষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন