উপকূলের খবরের ফেরিওয়ালা
ছাইফুল ইসলাম মাছুম:
বাংলাদেশের সমগ্র উপকূল অঞ্চল ঘুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংবাদ পাঠককের সামনে তুলে আনেন তিনি। পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামগরের কালিঞ্চি গ্রাম—সর্বত্রই তার পদচারণা রয়েছে। খবরের খোঁজে ছুটে চলেন এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। এ কারণে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন উপকূল সাংবাদিকতার পথিকৃত্ হিসেবে। বলছিলাম উপকূল সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টুর কথা।
তার জন্ম উপকূলীয় জেলা বরগুনায়। বেড়ে উঠেছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। তার সাংবাদিকতার শুরুর গল্পটা বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হলেও ২০০২ সালে রাজধানীতে জাতীয় গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পেয়েছেন বহু পুরস্কার। পেয়েছেন ‘উপকূল বন্ধু’ সম্মাননা। সম্প্রতি তৃতীয়বারের মতো ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।
খবরের খোঁজে নদীর বুকে জেগে ওঠা দূর্গম চরে নির্ভয়ে ছুটে যান। কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো তীব্র রোদ, কখনোবা পানিতে ভিজে সংবাদ সংগ্রহ করেন। তিনি জানেন, উপকূলের মানুষের কণ্ঠস্বর এখন আর মিডিয়ায় চোখে পড়ে না। কেবল মাত্র ঘুর্নিঝড় এলেই গণমাধ্যম উপকূলের কথা স্মরণ করে। এজন্য তিনি চান সারাটি বছর উপকূলের সঙ্গে থাকতে, উপকূলের প্রান্তিকের কণ্ঠস্বরকে খবরের শিরোনাম করতে। তিনি চান সবাইকে নিয়েই উপকূলকে এগিয়ে নিতে। তার নেতৃত্বে উপকূল জুড়ে তিন ধরনের কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। একটি হলো সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক, আরেকটি স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের নেটওয়ার্ক, এবং তৃতীয়টি তৃণমূল স্তরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা ছাড়াও উন্নয়ন সহায়তাও করছে। উপকূল নিয়ে কাজের জন্য স্বীকৃতিও মিলেছে তার। ঝুলিতে জমেছে অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড। চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, গ্রামীণফোন-ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড, ইউনিসেফ মীনা অ্যাওয়ার্ড, পিআইবি-এটুআই অ্যাওয়ার্ড, পিআইবি-ইউনিসেফ ফিচার পুরস্কার, ইউএনডিপি-বাংলাদেশ সরকার পুরস্কার, কানাডিয়ান অ্যাওয়ার্ড; সর্বশেষ ২০১৭ সালে আবারও ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডসহ বেশকিছু জাতীয়-আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।
নিজের ব্যতিক্রমীধারার সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘উপকূল নিয়ে আমার স্বপ্ন এটাই, উপকূলের বিভিন্ন জনপদের তথ্য আমি কেন্দ্রে নিতে চাই। এবং প্রান্তিককে কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্দেশ্যটা হলো, উপকূলের অবস্থার পরিবর্তন, উপকূলের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন। মানুষের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রে পৌঁছানোর মধ্যদিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’ প্রসঙ্গত, রফিকুল ইসলাম মন্টু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে পলিটিক্যাল বিট, নির্বাচন কমিশন বিট ও জেনারেল বিটে কাজ করেছেন। (দৈনিক ইত্তেফাক)