রায়পুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই ১০ বছর !
মোঃ মোস্তফা কামাল, রায়পুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় ১০ বছর ধরে চিকিৎসক না থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ের লোকজন। আর এ কারণে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ বেড়ে চলেছে।
চিকিৎসক না থাকার কারণে সাধারণ খেটে খাওয়া রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি ও ৭নং বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামে অপর একটি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।
এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে এম.বি.বি.এস ডাক্তারের পদ থাকলেও প্রায় ১০ বছর ধরে এ পদগুলো খালি পড়ে আছে।
হায়দরগঞ্জ এলাকার শাহাদাত গাজী বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা ও গরমের কারণে আমাদের পরিবারের দু’জন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা না পেয়ে ১১ কিলোমিটার দূরে রায়পুর সরকারী হাসপাতালে গিয়ে ৩’শ টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিয়েছেন। এভাবে অসংখ্য গ্রামের লোকজন চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ১১-১২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। অর্থ সংকটের কারণে গ্রামের প্রান্তিক লোকজন অনেকসময় চিকিৎসা নিতে হন ব্যর্থ।
উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদ উল্যাহ বি.এস.সি বলেন, আমার ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চরাঞ্চলের লোকজন। এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। সেখানে গিয়ে গ্রামের অনেকেই চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জাকির হোসেন বলেন, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র দুটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসক নেই।
এ বিষয়ে প্রতি মাসেই সিভিল সার্জনকে অবগত করে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তার না থাকায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর প্রভাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশি পড়ছে। প্রতিদিন ৪’শ থেকে ৫’শ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে। তবে আশা করছি অচিরেই চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।