রামগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতিষ্ঠানে হামলা, আহত ৬

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ৭:২২ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম কেনার জের ধরে যুবলীগ নেতা রাসেদুল হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. শাহাজাহানের লোকজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রতনপুর এলাকায় রাসেদুল হাসানের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়। এদিকে শাহজাহান ও রাসেদ হামলার ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করছেন।

 

আহতরা হলেন কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেলের অনুসারী যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন, শাহাদাত হোসেন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম সবুজ হোসেন এবং কাউন্সিলর শাহাজাহানের অনুসারী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মামুন হোসেন ও ছাত্রলীগ নেতা জুনাইদ হোসেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

সুত্র জানায়, আগামি ৩০ জানুয়ারি রামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে যুবলীগ নেতা রাসেদুল হাসান সমর্থকদের নিয়ে দুপুরে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। রাসেদ পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও মেসার্স রাসেদ ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে রাশেদ তার প্রতিষ্ঠানে পৌঁছলেই কাউন্সিলর শাহাজাহানের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়। শাহাজাহান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন জানান, শাহজাহানের ভাতিজা মামুনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন লোক আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসময় আমাদেকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেদের প্রতিষ্ঠানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

 

কাউন্সিলর প্রার্থী রাসেদুল হাসান বলেন, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছলেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে যুবলীগের কয়েকজন নেতা আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর মো. শাহজাহান জানান, রাসেদের অনুসারীরা আগে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমার দুইজন লোক আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, কেউ আমাকে ঘটনাটি জানায়নি। তবে আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ ব্যাপারে হামলার শিকার প্রার্থীকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ রইলো।

 

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলার ঘটনায় রাশেদ লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন