ট্রাম্পের আরেক হোঁচট
বিভিন্ন দেশ থেকে শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি আঘাত।
গত অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করে, ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর শরণার্থী আশ্রয় কার্যক্রম আবার চালু করতে যাচ্ছে, কিন্তু ১১টি ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ থেকে শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এর অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
শনিবার সিয়াটলের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেমস রবার্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন শরণার্থী কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন এমন ব্যক্তিদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানেরা শরণার্থী হিসেবে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।
দুটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই রায় দেন। মামলা দুটি করেন শরণার্থীরা। রায়ের বিচারক লেখেন, মামলাকারী শরণার্থীদের পরিবার অন্যত্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের সঙ্গে একত্র হতে চান শরণার্থীরা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তা পারছেন না।
রয়টার্স জানায়, যেই দেশগুলো থেকে শরণার্থী নেওয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মিসর, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, মালি, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া শরণার্থীদের ৪০ ভাগই এই দেশগুলো থেকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, অক্টোবরে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হওয়ার পর থেকে ১১টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
বিচারক তাঁর রায়ে বলেন, প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তা পর্যালোচনা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে, কিন্তু ১১টি দেশ থেকে শরণার্থী প্রবেশের বাধা দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ‘অকৃত্রিম’ সম্পর্ক আছে।
বিচার মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা বিচারকের এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।
গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই অভিবাসন সীমিত করতে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এই আদেশ অনুসারে, ১২০ দিন পর্যন্ত শরণার্থীদের ঢুকতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এরপরও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিরীয় শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে না। যদিও একের পর এক তা আটকে দিতে থাকেন দেশটির আদালত।