হাজিরপাড়ায় বিদ্রোহীর আতঙ্কে নৌকার প্রার্থী

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ৫:৪২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল মোরছালিন মাছরুর জীবনের নিরাপত্তা ও ভোট নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রধারী বহিরাগতদের উপস্থিতি বেড়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী সামছুল আলম বাবুল (আনারস) এসব বহিরাগতদের লালন করছেন।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে জীবনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে নৌকার প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন।

এসময় জেলা পরিষদের সদস্য বদরুল আলম শ্যামল, হাজিরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামাল হোসেন সাগরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বাবুল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১৬ নভেম্বর তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

এসময় অভিযোগ করে নুরুল মোরছালিন মাছুরুর বলেন, বিদ্রাহী প্রার্থী বাবুলের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে প্রচারণার সময় আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেছে। আমার কয়েকজন নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম তার (বাবুল) দূর সম্পর্কের ভাগিনা। তাকে (জাহাঙ্গীর) দিয়েই বাবুল স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যেন নৌকার পক্ষে নির্বাচন না করে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশানকে হুমকি দেওয়া হয়েচে। আমার নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করেনি। এটি রহস্যজনক। এতে ভোটার ও আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে খুব আতঙ্কে রয়েছি।

সামছুল আলম বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন, জাহাঙ্গীর আমার আত্মীয়। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল। তিনি কেন আমার নির্বাচনী কাজে আসবেন। নৌকার প্রার্থীর জনসমর্থন নেই, এজন্য তিনি গুজব ছড়াচ্ছেন। আমার নেতাকর্মীদের ওপর নৌকার কর্মীরা হামলা করেছে, আমিও তাদের বিরুদ্ধা থানায় অভিযোগ করেছি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও হাজিরপাড়া ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক বলেন, অস্ত্রধারী বহিরাগতদের উপস্থিতি, নৌকার কর্মীদের ওপর হামলা এসব ঘটনায় কেউই কোন অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন