‘সুখি কর্মকর্তা’ আশিকুর, মাঝেমধ্যে অফিসে আসেন!

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২১ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুখি মানুষরা আয়েশি হয়। তাঁদের ইচ্ছের দাপট থাকে সর্বত্র। সময়মতো সারেন কাজকর্ম। রঙ্গিন স্বপ্নে ভরপুর থাকে চারপাশ। নিজেরমতো করে সাজান জীবন-পরিবার। এমন এক সুখি মানুষের সন্ধান মিলেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে। তিনি হলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান।

সরকারি এ কর্মকর্তা যেন নিজের কর্মস্থল আর দায়িত্বের কথা ভুলে গেছেন! সত্যিই তিনি সুখি মানুষ। মাঝেমধ্যে তিনি অফিসে আসেন কিছু সময়ের জন্য। বলাবলি হচ্ছে, আশিকুর অফিস না করে লক্ষ্মীপুর সদরের সোনাপুর গ্রামের বাড়ি ও রামগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ মনে করেন। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা কার্যালয়ে এসে এ ভাগ্যবান’ কর্মকর্তার দেখা না পেয়ে মনভরে কষ্ট নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গেল বছরের ডিসেম্বরে আশিকুর রহমান কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে কমলনগর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের উপ-সহকারি প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। মন চাইলে তিনি মাঝেমধ্যে আসেন, তাও কিছু সময়ের জন্য। অফিসের স্টাফ বা কেউ কোন সেবার তথ্য জানতে চাইলে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। রক্তচক্ষু দেখে হজম গিলতে হয় সামনে থাকা ব্যক্তিকে।

চরজাঙ্গালিয়া ও তোরাবগঞ্জ এলাকার কয়েকজন জন-প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা আশিকুর রহমানের অফিসে কয়েকদিন গিয়েও পাননি। ফোন করলেও সাড়া মেলে না। এছাড়া উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওয়েব পোর্টালেও সাবেক প্রকৌশলী পানেদা আক্তারের মোবাইল নাম্বার দেয়া রয়েছে।

এদিকে নিয়মিত অফিস না করায় এবং অনিয়মে জড়িয়ে পড়ায় ওই কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা রায়পুরের গিয়াস উদ্দিনের উপর হামলা করেছে ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় তখন তোলপাড় হয়। আশিকুরের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

গত বুধবার উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি ৪ দিন এসেও জনস্বাস্থ্যের অফিসারের দেখা পায়নি। তিনি কবে অফিসে করবেন, স্টাফরাও নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি। পুকুরের পানি খেলেও তিনি আর গভীর নলকূপের জন্য এ অফিসে আসবেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানতে চাইলে সোমবার আশিকুর রহমান বলেন, আমি জেলা শহরে আছি। জেলা অফিসে কোন কাজ থাকলে কমলনগরে কম যাওয়া হয়। তা না হলে প্রতিদিনই আমি অফিস করি।

এ ব্যাপারে ইউএনও মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি কার্যালয়ের সংস্কার কাজ চলছে। এজন্য আমি আশিকুর রহমানের কার্যালয়ের একটি কক্ষে বসি। কিন্তু উনি কার্যালয়ে থাকেন কিনা আমি লক্ষ্য করি না। আর এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না করলেও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন