সারাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা
নতুন এই আদেশ অনুযায়ী সারাদেশে সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ বাইরে যেতে পারবে না। এছাড়া এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত কঠোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে
বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন-২০১৮ এর ক্ষমতাবলে সারা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ১১ (১) ধারাবলে এই আদেশ জারি করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
নতুন এই আদেশ অনুযায়ী সারাদেশে সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ বাইরে যেতে পারবে না। এছাড়া এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত কঠোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার করা বলা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করায় লাখ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে ও লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক হলো জনসাধারণের একে অপরের সাথে মেলামেশা নিষিদ্ধ করা। সেহেতু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ১১ (১) ধারাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হলো।
এজন্য বাংলাদেশের জনগণকে কয়েকটি নির্দেশ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়-
১. করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতীব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না;
২. এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো;
৩. সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না;
এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয়।
তবে নতুন এই আদেশ জারি করা হলেও দেশের জরুরি পরিষেবা ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট পেশার ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৪১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। যা গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার অতীতের রেকর্ড ভেঙে গেছে।