সাগরের বুকে অসহায় গাঙচিল !

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

হাসান মাহমুদ শাকিল: সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চগুলো। ঘন্টাখানিকের মধ্যেই লঞ্চের চারপাশে ঝাঁকে ঝাঁকে গাঙচিলের উপস্থিতি দেখা যায়। লঞ্চ থেকে পর্যটকদের ছুঁড়ে মারা চিপস ও পাউরুটি ছোঁ মেরে নিয়ে যায় তারা। রঙিন সাগরের বুকে গাঙচিলের উড়োউড়ির দৃশ্যটি পর্যটকরাও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করেন। অবশ্য পর্যটকরাও গাঙচিলের উদ্দেশ্যেই চিপস-পাউরুটি ছুঁড়ে দেয়।

কিন্তু কতটুকু অসহায় হলে গাঙচিলগুলো লঞ্চের চারপাশে খাবারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা উড়ে বেড়ায়। এতে যেন তাদের ক্লান্তি নেই। যেখানে পর্যটকের ছুঁড়ে ফেলা এক টুকরো চিপসও তারা নষ্ট হতে দেয় না। সাগরের পানিতে পড়ে গেলেও তাৎক্ষণিক চিপস বা পারুটি ঠোটে তুলে নিতে ভুল করে না গাঙচিল। তারা অসহায় হলেও সাগরের বুকে এটি পর্যটকদের নজরকাড়া দৃশ্য।

গাঙচিলের এ খাবারের জন্য ছুটোছুটি দেখতেই সেন্টমার্টিন যাওয়ার প্রথম আকর্ষন পর্যটকদের। কারণ খাবারের জন্য উড়োজাহাজের মতো গাঙচিলের উড়োউড়ির দৃশ্যগুলো পর্যটকরা আনন্দই মনে করে। কেউ তাদের অসহায়ত্বের কথা ভাবে না।

যাই হোক, গাঙচিলের এই উড়েবেড়ানোর দৃশ্যকে নিজের সঙ্গে ধারণ করতেই পর্যটকরা লঞ্চের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এসময় অনেককেই ঝুঁকি নিতে দেখা যায়। তবে বিশাল সাগরে কোন পর্যটকরই ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। একবার পড়ে গেলে সাগরে হারিয়ে যেতে সময় লাগবে না।

লঞ্চ থেকেই অদূরে মিয়ানমারের বর্ডারের সীমানা দেখা যায়। তবে যতদূর দৃষ্টি যায় কাউকে দেখা যায় না। কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দেখা গেলেও তা লঞ্চ থেকে অনেক দূরে থাকে। তাই ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে গাঙচিলের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়া উচিত নয়। ঝুঁকি এড়িয়েই ছবি তুলতে হবে।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আটলান্টিক ক্রুজ ও পারিজাতসহ কয়েকটি লঞ্চ টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেঁড়ে যায়। দিনে আর কোনভাবে সেন্টমার্টিন যাওয়ার ব্যবস্থা নেই। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে ওই লঞ্চগুলোই পর্যটকদের নিয়ে টেকনাফ ঘাটে ফিরে আসে। এরমধ্যে অনেক পর্যটকই সেন্টমার্টিন রাত্রীযাপন করে পরদিন বিকেলের লঞ্চে ফেরত আসেন।

সকালে যাওয়ার পথে গাঙচিলের একইরকম দৃশ্য বিকেলেও চোখে পড়ে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। এরমধ্যে প্রায় দুই ঘন্টা গাঙচিলগুলো খাবারের জন্য লঞ্চের চারপাশে উড়তে থাকে। লঞ্চে খাবারের দাম বেশি হলেও পর্যটকরা আনন্দ পেতে চিপস পারুটি কিনে গাঙচিলের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেয়। টেকনাফ যাওয়া-আসার মধ্যে দিনের চার ঘন্টা খাবারের জন্যই লঞ্চের আশপাশে থাকে গাঙচিলগুলো। আর ২০ ঘন্টা হয়তো সাগরের বুকে অসহায়ের মতো পড়ে থাকে তারা।

অন্যদিকে লঞ্চে উঠলেই কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের উদ্দেশ্যে কিছু নির্দশানাবলি মাইকে ঘোষণা করেন। এতে গাঙচিলের উদ্দেশ্যে ভারি কিছু ছুঁড়ে না মারা, সাগরের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল-প্যাকেট না ফেলা ও ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাখির উদ্দেশ্যে ভারি কিছু ছুঁড়ে না মারলেও সাগরের পানিতে বোতল, প্যাকেট ও ময়লা না ফেলার নির্দেশনা অনেকেই মানেন না। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের এ নির্দেশনা মেনে চলা সকল পর্যটকের প্রয়োজন। কারণে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে এমনটাই মনে হয়েছে। তবে সেন্টমার্টিন পর্যটনের জন্য মনোমুগ্ধকর স্থান। সাগরের রঙিন পানিতে ছোট-বড় পাথরগুলো মনের মন্দিরে শিল্পের আভির্ভাব ঘটায়। ভ্রমণকাহিনীর দ্বিতীয় প্রতিবেদনে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

লক্ষ্মীপুর থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পদ্ধতি : লক্ষ্মীপুর থেকে শাহী কিংবা জোনাকি চেয়ারকোচ বাসে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা ভাড়ায় চট্টগ্রাম অলঙ্কার ও একেখান বাসকাউন্টারে যেতে প্রায় ৩ ঘন্টা লাগে। সেখান থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিযোগে চট্টগ্রাম সিনেমা প্যালেস বাস কাউন্টার যেতে হবে। সেখান থেকে সরাসরি টেকনাফ ঘাটে জনপ্রতি ৪০০ টাকা ভাড়ায় এসআলম, সৌদিয়া, মার্শা ও রিল্যাক্স চেয়ারকোচ বাস পাওয়া যায়। এতে প্রায় ৫ ঘন্টা সময় লাগে। তবে সেন্টমার্টিন যেতে অবশ্যই সাড়ে ৯ টার আগে টেকনাফ ঘাটে পৌঁছাতে হবে। কারণ সাড়ে ৯টার পর আর কোনভাবেই সেন্টমার্টিন যাওয়ার ব্যবস্থা নেই।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন