লক্ষ্মীপুরে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত জেলে উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীতে হামলা চালিয়ে ৩ জেলে গুলি করে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। বুদবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে ভোলার কাজিরখিল এলাকার ভোলারচর থেকে নিখোঁজ জেলে মহিউদ্দিনকে (৩৫) জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার হওয়া জেলে মহিউদ্দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার নানু ফরাজির ছেলে।
আহতরা হলেন মো. আব্বাস মাঝি (২৮), মো. ফারুক (৩৫) ও মো. ইউসুফ (২৭)। আব্বাস কমলনগর উপজেলার চরফলকন এলাকার তসির আহম্মদের ছেলে, ইউসুফ রামগতির পশ্চিম চরকলাকোপা গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে ও ফারুক নোয়াখালীর সুবর্ণ চরের আলমগীর ফরাজির ছেলে। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে নদীতে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৪ টার দিকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে মৎস্য আড়ৎদাররা।
আহতরা জানায়, আব্বাস মাঝিসহ ৬ জন জেলে মেঘনায় মাছ শিকারে যায়। নদীতে জাল ফেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জেলে নৌকায় দস্যুরা গুলি ছোঁড়ে। এতে ৩ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। এরমধ্যে আব্বাস ও ইউসুফের বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। আহত ফারুকের ডান পায়ের ওপরের অংশে ও ডান হাতে গুলি লেগেছে। এসময় নৌকা থেকে মহিউদ্দিনকে নিয়ে যায় দস্যুরা। ঘটনায় দুইজন জেলে সুস্থ্য থাকলেও দস্যুরা তেল নিয়ে যাওয়ার তারা ঘটনাস্থল ফিরতে পারছিল না। খবর পেয়ে রাত ২ টার দিকে কমলনগর উপজেলার লুধুয়া মৎস্যঘাট এলাকার আড়ৎদাররা ঘটনাস্থল পৌঁছে তাদেরকে উদ্ধার করে। রাত ৪ টার দিকে তাদেরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, ভোলা জেলার দৌলতখান এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। অপহৃত জেলে সকালে স্বজনদের ফোন দেয়। পরে স্বজনরা গিয়ে তাকে কাজিরখিল এলাকার ভোলার চর থেকে তাকে উদ্ধার করে।
প্রসঙ্গত, উপজেলার চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন মেঘনা বেষ্টিত। এতে ওই ইউনিয়নটিতে জলদস্যু বাহিনী আধিপত্য বিস্তার করছে। জলদস্যু বাহিনী খোকন ও ফখরুল সেখানে বলয় গড়ে তুলেছে। তারা দুইজনই ভাই। তবে দু’জন পৃথক বাহিনী গঠন করে দস্যুতা করে আসছে। একে অপরের বাহিনীর ওপর বিভিন্ন সময় হামলা করার ঘটনা রয়েছে। জেলে নৌকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে তারা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর চর আবদুল্লাহর জনতার বাজার এলাকায় ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহগুলো নোয়াখালীর হাতিয়া এলাকায় নিয়ে যায় দস্যুরা। ওই ঘটনায় ৩ অক্টোবর জলদস্যু বাহিনী প্রধান খোকনকে ও তার সহযোগী চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ ফরিদসহ ২৯ জনের নামে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। দস্যুদের হাতে নিহত কবিরের মা বিবি সাহিদা মামলাটি করেছেন।