লক্ষ্মীপুরে ইলিশ শিকারে মেঘনায় জেলেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা শেষের ১৮ ঘন্টা আগেই নৌকা ভাসিয়েছে জেলেরা। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) ভোর ৬ টা থেকেই নদীতে জেলেদের মাছ শিকার করতে দেখা যায়। দুপুর ১২ টায় কমলনগর উপজেলা চরফলকন ইউনিয়নে লধুয়া এলাকায় নদীতে বিপুলসংখ্যক জেলে নৌকা দেখা যায়। তবে সেখানে সরকারি আইন রক্ষায় প্রশাসনের কাউকেই দেখা যায়নি। প্রচুর নৌকা একসঙ্গে নদীতে নামায় শেষদিন অভিযান পরিচালনা সফল করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভোর থেকে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে জেলেরা দলবেধে নদীতে নেমেছে। নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সবাই জানে। এরপরও একসঙ্গে সবাই নদীতে নৌকা ভাসিয়েছে। কয়েকদিন হলো ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং শেষ হয়েছে। এতে নদীতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়ার আশায় ১৮ ঘন্টা আগেই নদীতে জাল ফেলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩ শতাধিক নৌকা লুধুয়া এলাকায় মেঘনার কূলে নৌঙর করে রাখা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তারা জাল বুনেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে অনেকে নৌকার ত্রুটি সমাধান করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার আগেই তাদের নৌকা সংস্কারের কাজ শেষ হয়ে যাবে। রাতে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জেলেরা নদীতে নামবেন। তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
![]()
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মা ইলিশ সংরক্ষণে রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর মধ্যরাত (১২ টা) পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ ২২ দিনে মৎস্য বিভাগ, কোষ্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ২৪৩ টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছেন। এতে জেলা সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগরে ৫২ বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে ২১ মামলায় ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও অর্থদণ্ডে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এতে জব্দকৃত ৪১৬ কেজি ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন ২১ লাখ ১৬ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জালগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এছাড়া আইন অমান্যকারী জেলেদের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ জেলার ৪৩ হাজার ৭৭২ জন জেলে রয়েছে। এরমধ্যে নিষেধাজ্ঞাকালীন এবার প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদেরকে বিনামূল্যে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছেন। বরাদ্দ অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে চরমার্টিন, চরফলকনসহ নদী তীরবর্তী কয়েকটি স্থানে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
![]()
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমলনগরের লুধুয়া এলাকার কয়েকজন জেলে জানায়, সরকার যে চাল দেয় তা তারা সময়মতো পায় না। এজন্য বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে তারা চুরি করে নদীতে মাছ শিকারে যায়। সেখানেও ধরা পড়লে জেল-জরিমানা দিতে হয়। সময়মতো চালগুলো বরাদ্দ দিলে জেলেরা নদীতে নামবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
জেলে আবদুর রহমান, আমান উল্যাহ, সাদেক উল্যাহ জানিয়েছেন, তারা সরকারের পক্ষ থেক ২৫ কেজি করে চাল পেয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনেই তারা রাতে মেঘনায় মাছ শিকারে যাবেন।
কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছ বলেন, আমরা নদীতে অভিযানেই ছিলাম। অভিযান টিমে ৬ জন কোস্টগার্ড ও আমিসহ ৪ জন স্টাফ ছিলাম। উপজেলার অধীনে ১৫ কিলোমিটার নদী এলাকায় সকাল থেকেই নৌকা ভাসিয়ে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। প্রচুর পরিমাণ নৌকা ভাসছে নদীতে। স্বল্প সংখ্যক লোক দিয়ে অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, রাত ১২ টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। এরআগে নদীতে নৌকা ভাসানোর আইনত দণ্ডনীয়। ভোর পর্যন্ত কোন নৌকা নদীতে নামেনি। আমরা সরকারি আইন রক্ষায় নৌ-পুলিশ ও কোষ্টগার্ডসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছি। কমলনগরের লুধুয়া এলাকায় নদীতে নৌকা নামিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।