রায়পুরে সম্পত্তি দখলে নিতে মৃত ভাইয়ের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা অসুস্থ হয়ে আবু হাশেম ঢালী (১১০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য গোপন করে হত্যা মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ছেলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম সম্পত্তি দখল করতে ভাবি-ভাতিজা ও ভাতিজিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে। তিনি পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে দোকানপাট দখলসহ বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না ভুক্তভোগীদের।

 

শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার মোল্লারহাট এলাকায় ঢালী বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার এসব অভিযোগ করেন। এসময় তার ছেলে সোহেল সামাদ রুবেল, শওকত আকবর, মেয়ে খোদেজা আক্তার, মেয়ে জামাতা ফয়েজ আহমেদসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে ১৬ জুন দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়পুরের হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহাম্মদ গত ৫ আগস্ট জেলা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয় তদন্তকালে মামলায় অভিযুক্ত সোহেল সামাদ রুবেল, শওকত আকবর পারভেজ, খোদেজা আক্তার সুমি, সেলিনা আক্তার, ফয়েজ আহম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা আইনে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় অপর আসামি রাকিবের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারের জন্য অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অপর ৫ অভিযুক্তকে অব্যহতি প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়। অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ করা ব্যক্তিদের কোন যোগসূক্র পায়নি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিনা আক্তার বলেন, আমার শ্বশুর আবু হাশেম ঢালী গত ১০ জুন সকালে মোল্লারহাট বাজার থেকে বাড়িতে আসার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়েই তিনি মারা যান। কিন্তু আমার দেবর শাহ আলম আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

আমার স্বামী একেএম সামছুল আলম মারা যাওয়ার পর আমাদের জমি-দোকানপাট দখল করে রেখেছে। এসব সম্পত্তি আত্মসাত করতেই আমাদেরকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সেলিনার ছেলে সোহেল সামাদ রুবেল বলেন, মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত ও হয়রানি থেকে রেহাই পেতে আমরা পুলিশের আইজিপি, ডিআইজি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

 

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পায়নি। এতে আমাদেরকে মামলা থেকে রেহাই দিতে আদালতে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু শাহ আলম বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। সে পুনরায় মামলাটি তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করে। মামলাটি এখন পিবিআই নোয়াখালীর তদন্তে রয়েছে।

 

মৃত আবু হাশেম ঢালীর মেয়ে রাজিয়া বেগম বলেন, আমার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ৬ দিন পর তিনি মারা যান। কিন্তু আমার ছোট ভাই সম্পত্তির জন্য একটি হত্যা মামলা করেন। সেখানে আমার ভাবি-ভাতিজি ও ভাতিজাদের আসামি করেছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ১৪ এপিবিএন ব্যাটালিয়ন কক্সবাজার পুলিশের কর্মরত এসআই মো. শাহ আলমের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহাম্মদ বলেন, তথ্য গোপন করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। জমির বিরোধের কারণেই অন্যদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন