রায়পুরে বিদ্যুতের সংযোগের নামে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৩নং চরমোহনা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড দক্ষিণ চরমোহনা গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংযোগ ও লাইন নির্মাণের নামে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি দালাল চক্র।
তাদেরকে এ কাজে সহযোগিতা করছে পল্লী বিদ্যুতের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের লোকজন। দালালদের সাফ কথা- মিটার প্রতি ১২/১৩ হাজার টাকা দাও, সংযোগ নাও। না হলে নাই।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোহনা গ্রামের ৯নং ওয়ার্ড, ইউছুপ সওদাগর বাড়ি, খোকা মিয়ার বাড়ি, নূর জাহানের বাড়ি, রানীর বাড়িসহ প্রায় ১২/১৩ বাড়ির (নুর জাহান বেগম, স্বামী: স্বপন-১৩ হাজার ৫’শ), (ইউছুপ সওদাগর-৭ হাজার), (আলী আহম্মদ খোকন-৭ হাজার), (জসিম, পিতা: আবুল কাশেম- ১৩ হাজার ৫’শ) টাকায় ৫০টি মিটার নতুন সংযোগ দিবে বলে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। টাকা দেওয়ার পর বাড়তি আরো টাকা দিতে চাপ দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জৈনক আহসান উল্লা, তার ছেলে মানিক, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের সিকদার কান্দী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ১২/১৩ টি বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ জন গ্রাহকের জনপ্রতি ১৩ হাজার ৫’শ টাকা করে ৫০টি মিটার বাবদ ৩ লাখ টাকা তোলেন।
এলাকাবাসী জানায়, সংযোগের জন্য ১২/১৩ হাজার টাকা দিলেও এখনো গ্রামবাসী কাঙ্খিত মিটার পায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালদের নির্দেশনা ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের লোকজন লাইন নির্মাণ বা মিটার সংযোগ দেয় না।
বিদ্যুৎ সংযোগের কথা বলতে গেলেই পল্লী বিদ্যুৎতের ও ঠিকাদারের লোকজন দালালদের কাছে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে। একটি মিটারের সার্ভিস তার লাগাতে গেলে পল্লী বিদ্যুৎতের লোকজনকে ২শ’ টাকা হারে ও মিটার লাগাতে গেলে ৫শ’ টাকা হারে ঘুষ দিতে হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।
অভিযুক্ত মানিক (০১৭১১০৬৩৬৫১),পিতা-আহসান উল্লা ও শিক্ষক আব্দুর রশিদ (০১৬২৫৮১০৭১৮) সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে মানিক ও রশিদ এলাকাবাসী থেকে টাকা উঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, এলাকার স্বার্থে কিছু টাকা উঠিয়েছি এবং নিজের পকেট থেকে কিছু খরচ দিয়ে মিটার লাগানোর চেষ্টা করছি। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না। রায়পুরে যত নতুন সংযোগ লাইন নির্মাণ হয়েছে আমিসহ সবাই টাকার বিনিময়ে মিটার পেয়েছে। এ কথা চরম সত্য। আপনারা যা পারেন লেখেন।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎতের (জিএম) জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আবু তাহের জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। রায়পুরেও ইতিমধ্যেই শতভাগ সাফল্য অর্জন হতে চলছে। বিদ্যুৎ সংযোগ কোন দালালকে টাকা না দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎতের কোন কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।