রামগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং’র প্রভাবে অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনায় বসতঘর পুড়ে ছাই

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২২ ৬:০৭ অপরাহ্ণ

রামগঞ্জ সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁশঘর গ্রামে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং’র প্রভাবে অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা ঘটে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

গত সোমবার, রাত আনুমানিক ৯টার সময় ওয়ার্ডের উস বাড়ির দুলাল মিয়ার বসতঘরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে স্বর্ণ অলংকার, আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও নগদ অর্থ সহ প্রায় ৫লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান দুলাল মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও তার ছেলে রাসেল আহমেদ। স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, গতকাল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে রাত আনুমানিক ৯টার সময় প্রচন্ড বাতাস প্রবাহের কারণে ঘরে থাকা হারিকেন থেকে কেরাসিন তেল পড়ে আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এমন সময় প্রচন্ড বাতাসে আগুনের তীব্রতা আরো বাড়তে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে সক্ষম না হওয়ায় ৩০মিনিটের মধ্যে পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঘরের মালিক দুলাল মিয়া স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান, আমার স্বামী অসুস্থ জনিত কারণে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। আমি আমার দুই ছেলের বউ সহ ঘরে ছিলাম। হঠাৎ প্রচন্ড বাতাসে ঘরে থাকা হারিকেন পড়ে আমাদের পুরো ঘর পুড়ে ছাই যায়। আমি এখন নিঃস্ব, অসুস্থ স্বামী ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে চলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। মাথা গোছানোর মতো আমার আর কিছুই নেই।

স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর ফারজানা মজুমদার জনি জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আগুন তাগার পরথেকে আমি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ও পৌর মেয়রকে বিষয়টি অবগত করার চেষ্টা করেছি।

রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান জানান, গতকাল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে থাকায় আমাদের যেতে একটু ভিরম্ব হয়। এদিকে স্থানীয় থেকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে আমরা নির্দিষ্ট যায়গায় পৌঁছতে দেরি হয়। স্থানীয় থেকে সরাসরি আমাদের অফিসিয়ালি নাম্বারে ফোন দিলে দ্রুত গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হতাম। তারপরেও গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ থাকায় আমরা পাম্প হাতে নিয়ে অর্ধ কিলোমিটার হেঁটে অগ্নিকাণ্ড স্থনে পৌঁছাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ খবর নি।

বিষয়টি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে কোনদিকে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌর মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন