নির্বাচনে একজন প্রার্থী যত টাকা খরচ করতে পারবে

প্রতিবেদক : এমএন /আর
প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৫:২২ অপরাহ্ণ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে চলছে এখন পুরোদমে প্রচারণায় ব্যস্ত।নির্বাচন মানেই খরচ, আর এই খরচের টাকা কোথা থেকে আসবে সেটাও হয়ত অনেকের জানা নেই। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় গেলেই হরদমে খরচ শুরু হয়। এক কথায় নির্বাচনের প্রতিটি কাজের আয়োজনেই মিশে আছে খরচ।

 

খরচের এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন প্রতিটি প্রার্থীর জন্য খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করেত পারবেন।

 

নির্বাচন কমিশন একজন প্রার্থীর ব্যয় সীমা ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সে খরচ আরও অনেক বেশি। প্রার্থীদের এতো টাকা কোথা হতে আসে বা তারা কিভাবে এই টাকা ব্যয় করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাদের দলের প্রার্থীরা সাধারণত নিজের অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনে লড়ছেন।

 

রিজভী বলেন, যে লিগ্যাল চ্যানেলগুলো থেকে আমরা টাকা সংগ্রহ করি, দলের ফাণ্ড তৈরি হয়, তার একটি হলো দলের নেতা-কর্মীদের চাঁদা। আরেকটি হচ্ছে নির্বাচনী মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি। এছাড়া কেউ যদি ডোনেট করে।

 

২০১৭ সালের দলের আয়-ব্যয়ের যে হিসেব বিএনপি নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে সেখানে তারা উল্লেখ করেছে তাদের মোট আয় প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা এবং মোট ব্যয় চার কোটি টাকার কিছু বেশি।

 

অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মতো তাদের ব্যাংকে জমা রয়েছে।

 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ দাবি করে বলেন, তাদের দলের পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে দুর্বল দলীয় প্রার্থীদের সহায়তা করা হয়। দলীয় কর্মীদের দেয়া চাঁদা এবং অনুদানের উপর ভিত্তি করে দলের ফাণ্ড পরিচালিত হয়।

 

আওয়ামী লীগ যে হিসেব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, দলটির আয় মোট ২০ কোটি টাকার বেশি এবং ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

ফলে ব্যাংকে টাকা জমা রয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও নিজস্ব টাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনে সাধারণত দুই ধরণের খরচ রয়েছে একটি প্রকাশ্য এবং অপরটি গোপনে। মনোনয়ন প্রাপ্তির পর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীকে যেমন টাকা খরচ করতে হয়, তেমনি অভিযোগ রয়েছে অনেক প্রার্থী আছেন যারা মনোনয়ন পাবার জন্য বড় অংকের টাকাও খরচ করেন।

 

রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের আয়-ব্যয় নিয়ে বিশ্লেষণ করে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য আয় ব্যয়ের বাইরেও অনেক লেনদেন রয়েছে।

 

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমার মনে হয়না রাজনৈতিক দলের যে অর্থায়ন এ ব্যাপারে কোন রকম স্বচ্ছতা আছে। এটা অদৃশ্যভাবে ঘটে। এখানে টাকার খেলা বিভিন্নভাবে হয়। মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকার খেলা হয়, ভোট কেনার মাধ্যমে টাকার খেলা হয়। এবং আপনাকে একদল কর্মী পালতে হয়।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন