ধর্ষণ : রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার দাপট
রামগঞ্জ সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমির হামজা ওরফে আরিয়ান নোবেলের (২৬) বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদিকে নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা।
অপহৃত আসামি ধর্ষক নোবেল পৌরসভার টামটা গ্রামের ইয়াসিন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মৃত লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে। ওই গৃহবধূ পার্শ্ববর্তী মিজি বাড়ির মৃত বাবুল মিজির স্ত্রী।
জানা যায়, ভুক্তভোগী বিধবা তার বাড়ি থেকে রিকশায় করে রামগঞ্জ যাচ্ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতা নোবেল প্রতিমধ্যে ওই বিধবার পথ আটকে দেন। পরে তাকে জোরপূর্বক উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন তার বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়। তার সাথে ছিলেন নোবেলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মরিয়ম। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর জোর করে কাবিনের স্ট্যাম্পে সই করানো হয় যেন তারা বিবাহিত। স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধরসহ নানা নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে, তিনি স্ট্যামকে স্বাক্ষর করতে এবং স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করেন। নানা নাটকীয়তা আর নির্যাতনের পর নোবেলের ভাবী নির্যাতিতাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
ভিকটিম ধর্ষিতা বলেন, আমি রামগঞ্জ যাচ্ছি। নোবেল আমাকে থামিয়ে তার বোনের বাসায় নিয়ে যায়। তার ভাইয়ের স্ত্রীও সেখানে ছিলেন। নোবেলের সাথে আমার বিয়ে বা কাবিন হয়নি। যা দেখাচ্ছে সবই ভুয়া এবং সাজানো নাটক। ভুয়া কাবিন বানিয়ে জেল থেকে ছাড়া পান নোবেল। এখন আবারও আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করছে। আমি বিরক্ত এবং আমি এটি থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই। অন্যথায় আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব।
অভিযুক্ত আমীর হামজা ওরফে আরিয়ান নোবেল বলেন, এসবই ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি সত্য কথা বলি এবং আমি ন্যায়ের পথে আছি সেজন্য এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে ফাঁসাচ্ছে। আর আমি সেই মহিলাকে বিয়ে করেছি। সে আমার বিবাহিত স্ত্রী।
রামগঞ্জ থানার (ওসি) তদন্ত একরামুল হক জানান, ভিকটিম থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ কাউসার জানান, নোবেলের বিরুদ্ধে পূর্বের ধর্ষনের ঘটনা ও বর্তমান ঘটনাটি শুনেছি। জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অন্যায়, অপরাধ সমর্থন করে না। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) ধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। পরে তিনি রামগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে নোবেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত আরিয়ান নোবেল রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার টামটা গ্রামের বাসিন্দা।