ডাক্তার বিমান চন্দ্রের প্রতি শ্রদ্ধা

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

সকাল থেকে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। হঠাৎ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত দেওয়ার জন্য লোকও ঠিক করা হয়। কিন্তু সেই লোক না আসাতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে রোগীকে বাঁচাতে ডাক্তার নিজেই রক্ত দান করলেন। জরুরি বিভাগে নিজের চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় রোগীকে রক্ত দান করেন তিনি।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালী হাতিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

এই সময় পাশে বসে থাকা কয়েকজন কয়েকটি ছবি তোলে সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দেন। যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে সেই ডাক্তারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্টও দেন।

রক্ত দিয়ে ভাইরাল হওয়া সেই চিকিৎসক হলেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বিমান চন্দ্র আচার্য। যাকে রক্ত দেওয়া হলো তিনি মিতা সাহা (৪৫)। মিতা সাহা হাতিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী নান্টু সাহার স্ত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের চেয়ারে বসা তিনি। হাতে রক্ত নেওয়ার জন্য স্যালাইনের সুই লাগানো। পাশে একটি টেবিলে রাখা ব্যাগে রক্ত এসে জমা হচ্ছে। সামনের টেবিলে জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার বই ও প্রেশার মাপার যন্ত্র পড়ে আছে। মুখে ক্লান্তি নেই, আছে রোগীকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া আনন্দের চাপ।

বিমান চন্দ্র আচার্য বলেন, রোগীটি তাদের প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন থেকে সে লিভার সমস্যা ও রক্ত শূন্যতায় ভুগছেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় হাসপাতালে আসে রোগীটি। কাগজপত্র ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে দ্রুত তাকে রক্ত দিতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে পারেনি স্বজনরা।

ইতিমধ্যে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রক্তের গ্রুপ দেখে নিজের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পরে মানবিকতা চিন্তা করে নিজেই রোগীকে রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিমান চন্দ্র আচার্য আরও জানিয়েছেন, এর আগে তিনি আরও ১৪ বার বিভিন্ন সময় মুমূর্ষু রোগীদের রক্ত দান করেছেন। করোনাভাইরাসের সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

রোগীর মেয়ের জামাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিলাস জানিয়েছেন, তার শাশুড়ি দীর্ঘদিন লিভারের সমস্যায় ভুগছে। অনেক দিন ঢাকায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিয়ে ছিলেন। দেশে আসার পর হঠাৎ তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তাৎক্ষণিক কিছু পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে জরুরি রক্ত দিতে বলে। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে রক্তের ব্যবস্থা করতে না পারায় ডাক্তার বিমান চন্দ্র আচার্য রক্ত দিয়ে প্রাণ বাচালেন শাশুড়ির।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নাজিম উদ্দিন বলেন, বিমান জরুরি বিভাগে ডিউটি করা অবস্থায় এক রোগীকে রক্ত দিয়েছেন। বিষয়টি আমি শোনার পরে তাকে ছুটি দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। বিষয়টি মানবিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন