গণপিটুনিতে রেনু হত্যা : আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আসামি মহিউদ্দিন

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

রাজধানীর বাড্ডায় প্রাইমারি স্কুল গেটে ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একমাত্র পলাতক আসামি মহিউদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নুরের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মোহাম্মদ মাঝহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পলাতক আসামি মহিউদ্দিন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আদালত এ মামলার অভিযোগ পত্র আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামি মহিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ৩ জানুয়ারি আসামির মহিউদ্দিনের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে
এ সংক্রান্ত  প্রতিবেদনের জন্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল হক ১৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে দুই জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আসামিরা হলেন, ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা, রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, মো. শাহিন, বাচ্চু মিয়া, মো. বাপ্পি, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, আসাদুল ইসলাম, বেল্লাল মোল্লা, মো. রাজু ও মহিউদ্দিন।

জাফর হোসেন পাটোয়ারী ও ওয়াসিম আহমেদ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ওয়াসিম, হৃদয় এবং রিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের মধ্যে রিয়া বেগম, বাচ্চু মিয়া, শাহীন, মুরাদ ও বাপ্পি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই তুবাকে ভর্তির খোঁজখবর নিতেই বাড্ডা প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলেন রেনু। এ সময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। ওই রাতেই রেনুর বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫শ’ জনকে আসামি করা হয়। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে গণপিটুনিতে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মাস্টার্স শেষ করা রেনু পরিবারে ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন