নিজস্ব ভবন নেই বহু সরকারি দপ্তরের, ঠিকানা খুঁজতে ভোগান্তিতে লক্ষ্মীপুরবাসী

প্রতিবেদক : এমএন/ এমএস
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা : সরকারি সেবা নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুরে সেবা নিতে এসে উল্টো এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটতে হচ্ছে মানুষকে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ভবন না থাকায় বছরের পর বছর ধরে ভাড়া করা ভবনে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে অনেকের দিনের বড় একটি সময় চলে যাচ্ছে শুধু দপ্তরের ঠিকানা খুঁজতে ও যাতায়াতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কার্যালয় শহরের প্রধান সড়কে, আবার কোনোটি আবাসিক এলাকার ভেতরে হওয়ায় প্রথমবার সেবা নিতে আসা নাগরিকদের দপ্তরের অবস্থান খুঁজে পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় দপ্তরের ঠিকানা জানতে স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার ও রিকশাচালকদের সহায়তা নিচ্ছেন। একাধিক দপ্তরে কাজ থাকলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময় ও যাতায়াত খরচ।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে দুটি পৃথক স্থানে। শহরের ল-ইয়ার্স কলোনির একটি ভাড়া ভবনে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। অন্যদিকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বাগবাড়ি এলাকার করিম টাওয়ারে। ফলে একই কার্যালয়ের ভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অনেককেই দুই স্থানে যেতে হচ্ছে।

সমাজসেবা কার্যালয়ে সেবা নিতে দক্ষিণ হামছাদী থেকে আসা হাফেজ মোবারক করিম বলেন, তিনি জানতেন না সমাজসেবা কার্যালয়ের কার্যক্রম দুই স্থানে পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণ নিতে এসে এখানে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাগবাড়িতে পরিচালিত হয়।

শহরের বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, শহরে বসবাস করেও সব সরকারি দপ্তরের অবস্থান জানা সম্ভব হয় না। কোথায় কোন দপ্তর, তা জানতে অনেক সময় অন্যের সহযোগিতা নিতে হয়। তাঁর মতে, সব সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ভবন থাকলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমত।

সমাজকর্মী রেজাউল হক রানা বলেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সচিবালয়ের আদলে একটি সমন্বিত সরকারি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা যেতে পারে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর একই কমপ্লেক্সে থাকলে মানুষ এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারবেন।

ভাড়া ভবনে পরিচালিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নিজস্ব ভবন না থাকায় অনেক দপ্তরেই জায়গার সংকট রয়েছে। নথিপত্র সংরক্ষণ, সেবাগ্রহীতাদের বসার ব্যবস্থা ও গাড়ি পার্কিংসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ভাড়া ভবনে অফিস পরিচালনা করায় সরকারেরও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

তবে নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এন.এম. রেজাউল ইসলাম বলেন, সারা দেশে তাদের ভবন নির্মাণ কার্যক্রমের একটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী ধাপে জমি অধিগ্রহণ করে ভবন নির্মাণ করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার হালদারও নিজস্ব ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে কোনো সরকারি দপ্তরের ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান নেই।

সচেতন নাগরিকদের মতে, জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে নিজস্ব ভবন নির্মাণের পাশাপাশি একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবাও আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন